সম্প্রতি বিশ্বকাপের স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচে পর্তুগিজ তারকা পেদ্রো নেতোর পায়ে দেখা গেছে এক অদ্ভুত দৃশ্য। দামি আধুনিক বুটের গোড়ালির অংশ কাঁচি দিয়ে কেটে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। শুধু নেতো নন, ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে ব্রাজিলের ফিলিপে কুতিনহো, রবার্তো ফিরমিনো ও জার্মানির ম্যাটস হামেলসের মতো তারকারাও এমন কাটা বুট পায়ে দিয়ে মাঠে নেমেছেন। ভক্তদের কাছে এটি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে গভীর চিকিৎসাগত কারণ।

হ্যাগলান্ডস ডিফরমিটি নামে পরিচিত এই সমস্যায় গোড়ালির পেছনের হাড় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ১৯২৭ সালে সুইডিশ সার্জন প্যাট্রিক হ্যাগলান্ড প্রথম এটি শনাক্ত করেন। অ্যাকিলিস টেন্ডনের সংযোগস্থলে এই অতিরিক্ত হাড়ের উপস্থিতি সাধারণত ব্যথা না দিলেও আঁটসাঁট বুট পরার সময় গুরুতর সমস্যা তৈরি করে। বুটের শক্ত পেছনের অংশ ওই উঁচু হাড়ের ওপর চাপ দেয়, যা টেন্ডন ও বার্সা নামের তরলপূর্ণ থলিকে ঘষে এবং তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি করে।

এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে খেলোয়াড়রা বুটের গোড়ালির শক্ত অংশ কেটে ফেলেন। বড় ক্লাবের চিকিৎসকেরা মেপে মেপে ঠিক জায়গাটি কেটে দেন, যাতে বুটের ব্যালান্স নষ্ট না হয়। স্থায়ী সমাধান হিসেবে হাড় কেটে ফেলার অস্ত্রোপচার করলেও তার পুনর্বাসনকাল অত্যন্ত দীর্ঘ ও কষ্টকর। সাংবাদিক স্টুয়ার্ট জেমসের ভাষায়, ‘মনে হয় যেন কেউ গোড়ালির ওপর করাত চালিয়েছে।’ অ্যাকিলিস টেন্ডন বিচ্ছিন্ন করে সার্জারি শেষে ফুটবলে ফিরতে অনেক সময় লেগে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ৮০০ মিটার দৌড়বিদ ডোনোভান ব্রাজিয়ারের উদাহরণ আরও স্পষ্ট করে। ২০১৯ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতা এই অ্যাথলেট হ্যাগলান্ডস ডিফরমিটির কারণে টানা তিন বছর ট্র্যাকে নামতে পারেননি। একাধিক অস্ত্রোপচারের পর ফিরলেও এই সমস্যা তাঁর ক্যারিয়ারকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। অল্প ব্যথায় বড় ম্যাচ এড়িয়ে যাওয়ার বিলাসিতা পেশাদার ফুটবলারদের নেই, তাই বুট কেটে সাময়িক স্বস্তিই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবলাররা অতিরিক্ত টাইট বুট ও অত্যধিক দৌড়াদৌড়ির কারণে এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। তাই মিলিয়ন ডলারের চুক্তির তারকা আর দামি বুটের মাঝখানে ছোট একটি ছিদ্রই অনেক সময় সবচেয়ে বড় স্বস্তি এনে দেয়। ভবিষ্যতে টিভিতে কোনো ফুটবলারের বুটে ফুটো দেখলে বুঝতে হবে, তিনি নিঃশব্দে গোড়ালির যন্ত্রণা সহ্য করে দলের জন্য মাঠে নিজের সেরাটা দিচ্ছেন।