কানসাস সিটির মাঠে অতিরিক্ত সময়ের লড়াই শেষে ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু এই জয়ের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে ৭২ মিনিটের একটি ঘটনা। পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরোর লাল কার্ড প্রদর্শনের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলো। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র করার পর অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা দুটি গোল করে জয় পেলেও এমবোলোর বহিষ্কার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
প্রথম দৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এমবোলোকে ফাউল করেছেন। ফলে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু ভিএআর হস্তক্ষেপ করে। পুনরায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসলে ফাউল করেননি পারেদেস; বরং এমবোলো নিজেই ডাইভ দিয়েছেন। ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে রেফারি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করেন এবং ডাইভ বা সিমুলেশনের জন্য এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ ও লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।
এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ফিফার নতুন একটি নিয়ম, যাকে বলা হচ্ছে 'ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ' বা মিসটেকেন আইডেন্টিটি। নিয়মটি চালুর পক্ষে বিশেষভাবে সওয়াল করেছিলেন রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা। এর আওতায়, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় রেফারি যদি ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখান, তবে ভিএআর সেই ভুল শনাক্ত করে পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করতে পারে। সাধারণত হলুদ কার্ডের ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করে না, কিন্তু এই বিশেষ নিয়ম ব্যতিক্রম। স্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ থাকলে অন-ফিল্ড রিভিউ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব।
ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনকে দেওয়া বিশ্লেষণে সাবেক ইংলিশ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস জানিয়েছেন, এই ঘটনার জন্য এমবোলো নিজেকেই দায়ী করতে পারেন। রেফারিকে প্রতারিত করেই তিনি হলুদ কার্ড আদায় করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভিএআরের চোখ এড়াতে পারেননি। ডেভিসের মতে, ডাইভ দেওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ থাকায় রেফারির সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।
অবশ্য সুইজারল্যান্ড শিবির এই রায় মেনে নিতে পারছে না। কোচ মুরাত ইয়াকিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি ছিল খুবই সাধারণ একটি ঘটনা, যেখানে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো কারণ ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই অহেতুক ভিএআর হস্তক্ষেপ তাদের পুরো ম্যাচের জোয়ার ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইয়াকিনের ভাষ্যমতে, এই নিয়মের সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফুটবলের আইন প্রণেতা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণকে 'ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া' ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যখন রেফারি কোনো অপরাধের জন্য ভুল দলের বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেন, তখন সেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ভিএআরের কাছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিদ্ধান্তের সঠিকতা নিশ্চিত করতে চাইছে ফিফা। তবে এমবোলোর লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক হয়তো আরও কিছুদিন চলবে।




