ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সাকিব নামের এক কিশোরের চারপাশে নীল-সাদা ও হলুদ-সবুজ পতাকার ছড়াছড়ি। তার নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনার পতাকা নীল-সাদা, আর বন্ধু আরমানের প্রিয় ব্রাজিলের পতাকা হলুদ-সবুজ। কিন্তু বাসার ছাদে বা পাড়ার দোকানে অন্যান্য পতাকা দেখে তার কৌতূহল জাগে। বইপড়ুয়া চাচাতো ভাই আশরাফ তাকে একে একে চিনিয়ে দেন। কালো, লাল ও হলুদ রঙের পতাকা জার্মানির; সাদার মাঝে লাল যোগ চিহ্ন ইংল্যান্ডের; টকটকে লাল পতাকার মাঝে সবুজ তারা মরক্কোর; লাল-সাদা চেককাটা নকশা ক্রোয়েশিয়ার এবং সাদার মাঝে রক্তলাল বৃত্ত জাপানের—যে দেশ সূর্যোদয়ের দেশ। সাকিব আর্জেন্টিনার একটি বড় পতাকা সংগ্রহ করে ফেলে।
কয়েকদিন পর মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ। পাড়ার বড় প্রজেক্টরে খেলা দেখার বিশাল আয়োজন। সাকিব পতাকা নিয়ে সেখানে উপস্থিত। ম্যাচের একপর্যায়ে ডি-বক্সে ফাউল হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। পুরো মাঠ স্তব্ধ হয়ে যায় যখন লিওনেল মেসি বল নিয়ে দাঁড়ান। অত্যন্ত শান্ত ও নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান মেসি—চারদিকে গোলের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মেক্সিকো দমে যায়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা দারুণ আক্রমণে সমতা ফেরায়। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মুখ হতাশায় মুড়িয়ে যায়। এরপর দুই দল তুমুল লড়াই চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা আরেকটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সাকিবসহ সব আনন্দে মেতে ওঠে।
পরদিন বিকেলে মাঠের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আশরাফ ভাইয়া সাকিবকে থামিয়ে কৃষ্ণচূড়াগাছের নিচে দাঁড় করান। তিনি জিজ্ঞেস করেন মেসির পেনাল্টি সম্পর্কে। সাকিব ফাটাফাটি বললে তিনি সংশোধন করে বলেন, ‘ওটা ফাটাফাটি নয় রে পাগল, ঠান্ডা মাথার পরিচয়। চারপাশে এত চিৎকারের মাঝেও যার মাথা স্থির, সাফল্য তারই হয়।’ তিনি আরও বলেন, মেক্সিকো গোল খেয়ে হতাশ না হয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং সমতা ফিরিয়ে এনেছে। ‘জীবনেও ধাক্কা খেয়ে বসে পড়া যাবে না। যতক্ষণ শেষ বাঁশি না বাজে, খেলা শেষ নয়—ঠিক তেমনই জীবনের প্রতিটি বিপর্যয় সামলে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’ সাকিব বুঝতে পারে ম্যাচের মধ্যে লুকিয়ে থাকা এই গভীর শিক্ষা সে নিজের চোখে কখনো দেখতে পেত না। আশরাফ ভাইয়ার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তাকে বাস্তব ও খেলার মাঠের সম্পর্ক বুঝিয়ে দিয়েছে।




