বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের লাইনআপ চূড়ান্ত হয়েছে। শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া চার দলই সাবেক বা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ফ্রান্স, স্পেন ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে ওঠা শুরু থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। তবে ইংল্যান্ডের এই পর্যায়ে আসা অনেকের জন্যই কিছুটা অপ্রত্যাশিত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ইংল্যান্ডকে ফেবারিট হিসেবে কেউ কেউ বিবেচনা করলেও, সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে তাদের নাম উচ্চারিত হয়নি তেমন। কিন্তু টুর্নামেন্ট এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানো ইংল্যান্ডের জন্য ছিল টনিকের মতো। এরপর প্রতিটি ম্যাচে তারা জয় ছিনিয়ে এনেছে দাপটের সঙ্গে। কোচ টমাস টুখেলের কৌশলী দল পরিচালনা ও মেধাবী ফুটবলারদের সঠিক ব্যবহার দলটাকে শেষ চার পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। জুড বেলিংহাম দলের হয়ে দুটি গোল করে আলো ছড়িয়েছেন।
অন্যদিকে, গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফেবারিট তালিকায় শীর্ষে ছিল। কোয়ালিফাইং পর্ব থেকেই তারা শক্তিশালী ফুটবল খেলেছে। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে চাপে পড়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত শক্তি আর অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই বাধা পেরিয়ে সুইজারল্যান্ডকেও হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। আর্জেন্টিনার রক্ষণ ও গোলকিপিংয়ে কিছু দুর্বলতা থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে তারা সবসময়ই প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে ছিল।
বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মাঝমাঠ বেশ শক্তিশালী। আক্রমণেও রয়েছে ধার। দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো ক্ষমতা রাখে। প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ব্রাজিল শুরুটা খারাপ করলেও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। পর্তুগালের মাঝমাঠ নিয়ে অনেক আশা থাকলেও, বয়সের ভারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দলকে টানতে পারেননি। জার্মানি এবারও ব্যর্থ হয়েছে। তাদের রক্ষণভাগ ধীরগতির মনে হয়েছে, তাই সেমির তালিকায় রাখা যায়নি।
সেমিফাইনালের দুটি ম্যাচই হবে রোমাঞ্চকর। ফ্রান্স-স্পেন এবং আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের লড়াইয়ে কে জিতবে তা বলা কঠিন। তবে ফ্রান্সকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের খেলা দুর্দান্ত। তবুও সেমিফাইনাল বা ফাইনালের ফল যেকোনো দিকে যেতে পারে, কারণ ফুটবলে সব সময় হিসাব মেলে না। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত রোমাঞ্চের অপেক্ষায় এখন সবাই।




