এনওএএ জানিয়েছে, চলমান এল নিনো পরিস্থিতি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া সংস্থাটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানায়, এই এল নিনো শরৎকালের মধ্যে ‘খুব শক্তিশালী’ স্তরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে ৮১ শতাংশ। ১৯৫০ সালে ট্র্যাকিং শুরু করার পর এটি অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসেই এই এল নিনো গঠিত হয় এবং ইতিমধ্যে এটি দুর্বল স্তর অতিক্রম করে মাঝারি পর্যায়ে পৌঁছেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে এর শক্তি বৃদ্ধির গতি কমার কোনো লক্ষণ নেই। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব—খরা, ভারী বর্ষণ ও তাপপ্রবাহ—শরৎ এবং শীতকালে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু নির্দিষ্ট অংশের তাপমাত্রা, যা এল নিনোর শক্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বছরের এই সময়ের জন্য রেকর্ড বা তার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগে থেকেই মহাসাগর উষ্ণ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী এবং এনওএএ এল নিনো পূর্বাভাস দলের সদস্য এমিলি বেকার পরিস্থিতিকে ‘বেশ চরম’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে এটি ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের এল নিনোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটি আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ওই এল নিনোয় আবহাওয়া সংক্রান্ত দুর্যোগে ২৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়াইন জানান, এটি কোনো সাধারণ এল নিনো নয়। কেবল বছরের এই সময়ের জন্য রেকর্ড ভাঙাই নয়, বরং এই এল নিনো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট পটভূমি উষ্ণতার ওপর এসেছে, যা অতীতের ক্ষেত্রেও ছিল না। তিনি বলেন এর প্রভাব ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর মতো একই ধরনের নাও হতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার ভিত্তিতে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো মানেই আরও তীব্র চরম আবহাওয়া নয়, তবে সেই অবস্থাগুলোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে জানান বেকার। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত এবং উত্তর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় উষ্ণ শীতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

সাধারণত এল নিনো আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমকে দুর্বল করে দেয়। কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি বুধবার তাদের পূর্বাভাসে ঝড়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে, কারণ শক্তিশালী বা খুব শক্তিশালী এল নিনো সম্পর্কে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আটলান্টিকে হারিকেন কার্যক্রম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে থাকবে বলে তারা মনে করছে। বিশ্বব্যাপী প্রভাবের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক অবস্থা এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার সম্ভাবনা।

সোয়াইন তাঁর পোস্টে এল নিনোকে বৈশ্বিক জলবায়ুর ‘থার্মোস্ট্যাট’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা প্রশান্ত মহাসাগরের সঞ্চিত তাপ বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে এবং সমগ্র গ্রহকে উষ্ণ করে তোলে। অনেক জলবায়ু বিজ্ঞানী মনে করছেন, ২০২৭ সালে এই সঞ্চিত তাপের কারণে ২০২৪ সালের বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

ক্লাইমেট সেন্ট্রালের জলবায়ু বিজ্ঞানী জ্যাক লেব বলেন, একটি শক্তিশালী এল নিনো আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে নাটকীয় নতুন জলবায়ু রেকর্ডের সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং এটি আরও উষ্ণ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেবে।

(উৎস: এনওএএ, ফরচুন ডটকম)