বর্ষাকালে ত্বকের যত্নে সচেতনতার অভাব প্রায়ই দেখা যায়। অনেকের ধারণা, এই সময়ে ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর বিপরীত। বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকের আর্দ্রতা হঠাৎ কমে যেতে পারে, তাই হালকা টেক্সচারের হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এটি ত্বকের কোমলতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অনেকে বর্ষাকালে সূর্যের প্রখরতা কম বলে মনে করে সানস্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে যান। এটি একটি বিপজ্জনক ভুল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউভি রশ্মি মেঘ ভেদ করেও ত্বকে পৌঁছাতে সক্ষম। তাই সারা বছর ধরে এসপিএফ ৩০ বা তার অধিক মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অপরিহার্য।
ত্বক পরিষ্কার রাখার বিষয়েও উদাসীনতা দেখা যায়। বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ত্বকে ময়লা ও তেল জমে সহজেই। দিনে দুবার অ্যালকোহল-মুক্ত ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়া প্রয়োজন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা গ্লাইকোলিক অ্যাসিডযুক্ত ফেসওয়াশ উপকারী হতে পারে।
শরীরের অন্যান্য অংশের যত্নেও অনীহা থাকে। বর্ষায় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে হাত ও পায়ের ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে পায়ের আঙুলের ফাঁকে সংক্রমণ বেশি হয়। চিকিৎসকেরা হাত-পা শুষ্ক রাখা, নিয়মিত মোজা পরিবর্তন এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার বা সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, ভেতর থেকেও ত্বকের পুষ্টি প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান এবং টক ফল, বাদাম, সবুজ শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। এটি ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখে।
ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, বর্ষাকালে কম কিন্তু নিয়মিত যত্নই ত্বকের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। সঠিক পদ্ধতি মেনে চললে বর্ষার আবহাওয়াতেও ত্বক থাকতে পারে সতেজ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।




