রাজশাহীর সন্তান তৌহিদুল ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ছেন। তবে তাঁর নাম এখন আলোচিত বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকায়। ফিফার আনুষ্ঠানিকতা দলের একজন সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন এবারের আসরে। তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে পতাকা বহন, খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ এবং পুরো প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করা।
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পথটি সহজ ছিল না তৌহিদুলের জন্য। ফিফার ওয়েবসাইটে নিউজলেটারের জন্য নিবন্ধন করার কিছুদিন পর ই-মেইলে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি পান তিনি। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ট্রায়আউটে অংশ নেন। সেখানে দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা ও বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলার পরীক্ষার পর মে মাসে তাঁকে বেছে নেওয়া হয় আনুষ্ঠানিকতা দলের জন্য।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি খেলার জন্য পাঁচ ঘণ্টা আগে শুরু হতো তৌহিদুলের প্রস্তুতি। চেক-ইন শেষে পূর্ণাঙ্গ মহড়া চলত। স্থানীয় ফুটবল একাডেমির শিশুরা খেলোয়াড়দের ভূমিকায় অংশ নিত এই অনুশীলনে। টেলিভিশনের পর্দায় কয়েক মিনিটের সম্প্রচারের পেছনে ছিল কয়েক ঘণ্টার কঠোর পরিশ্রম।
প্রশিক্ষণ শেষে ১০ সদস্যের পতাকা প্রটোকল দলে সুযোগ পান তৌহিদুল। কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে কানাডা দলের সরকারি পতাকা বহনের দায়িত্ব পান তিনি। বহুবার টেলিভিশনে দেখা সেই দৃশ্যের অংশ হয়ে মাঠে হাঁটার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন বলে জানান তিনি।
মাঠে কাজ করার সময় তারকা ফুটবলারদের কাছ থেকে দেখা পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তৌহিদুল। বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু ও স্পেনের লামিন ইয়ামালের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দনের সুযোগ হয়েছে তাঁর। ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও সাবেক ইংলিশ ফুটবলার ডেভিড বেকহামকেও কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। নিরাপত্তার কারণে ছবি তোলা সম্ভব হয়নি, তবে স্মৃতিগুলো সারা জীবন মনে থাকবে বলে জানান তিনি।
বিশ্বের নানা দেশের স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কাজ করে তিনি একটি আন্তর্জাতিক পরিবারের সদস্য হয়েছেন। সহকর্মীরা বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনার গল্প শুনে বিস্মিত হয়েছেন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশের সাজসজ্জার ভিডিও দেখে অনেকে দেশটিতে ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
১০ জুলাই স্পেন ও বেলজিয়ামের কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে তৌহিদুলের কাজ শেষ হয়েছে। তবে তাঁর স্বপ্ন অপূর্ণ থেকেছে। তিনি আশা করেন, একদিন বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলবে এবং সেই দিন লাল-সবুজ পতাকা হাতে তিনি বাংলাদেশ দলের সামনে দাঁড়িয়ে প্রারম্ভিক আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। এটিই হবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।




