দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় গত শনিবার রাতে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুনরায় সংসার করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে। উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের সুতারপাড়া গ্রামে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সুমাইয়া আক্তার (২৫) এবং অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান (৫০) উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিবাহ। মাহবুবুর পেশায় নির্মাণশ্রমিক। এই দম্পতির একটি ছয় বছরের ছেলে ও তিন বছরের মেয়ে রয়েছে। স্বামীর নির্যাতনের মুখে প্রায় দুই মাস পূর্বে মাহবুবুর সুমাইয়াকে তালাক দেন। মা মারা যাওয়ায় ও বাবা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করায় সুমাইয়া তার ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

নিহতের মামা সাজ্জাদুর রহমানের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তালাকের পর মাহবুবুর সুমাইয়াকে আবার ঘর ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি সুমাইয়াকে খুনের হুমকি দিচ্ছিলেন। ঘটনার রাতে মাহবুবুর বাড়িতে ঢুকে সুমাইয়াকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পূর্ব থেকেই বোতলে করে আনা পেট্রোল সুমাইয়ার শরীরে ঢেলে তিনি আগুন ধরিয়ে দেন।

তার আর্তচিৎকার শোনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু রংপুরে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার ব্যাপারে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমানকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা সম্ভব হয়েছে। সেখান থেকে অগ্নিসংযোগের কাজে ব্যবহৃত একটি পেট্রোলের বোতল ও একটি ধারালো ছুরি জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু করা হবে। তদন্ত সম্পন্ন হলে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।