ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা জজ মুনির হোসেনের আদালত রোবাবার এক পোশাককর্মীকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত আসামি শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। রায়ের সময় ২০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজীব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায় প্রদানের আগে কারা কর্তৃপক্ষ আসামি শরিফুলকে আদালতে উপস্থিত করে। মামলার নথি থেকে জানা গেছে, নিহত শাহিনা খাতুন ও আসামি শরিফুল ইসলাম উভয়েই ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সেখানেই পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় একত্রে বসবাস শুরু করে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, শরিফুল ইতোমধ্যে বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। এক পর্যায়ে নাহিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু শরিফুল তার পূর্বের সংসারে ফিরে যেতে আগ্রহী হলে তাদের মাঝে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ২০২০ সনের ১৯ মার্চ এ বিরোধ চরমে পৌঁছায় এবং দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ অনুসারে, এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শরিফুল নাহিনার গলা টিপে হত্যা করে। হত্যার পর দেহটি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে কক্ষের অভ্যন্তরে রেখে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে সে পালিয়ে যায়।

তিন দিন পর রুম থেকে উৎকট গন্ধ বের হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে নাহিনার মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের ভাই মো. রাহিন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর পুলিশের উপপরিদর্শক মো. ফজল আলী শরিফুলকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এবং সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ২০২২ সালের ৭ মার্চ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এ মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর তালিকা থেকে আটজনের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়।