নাটোরের লালপুর উপজেলার বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় বসবাসরত পাঁচটি হিন্দু পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করে চিঠি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে বাড়িগুলোর বারান্দায় এই চিঠি পাওয়া যায়। এরপর পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘সেভেন স্টার কর্তৃপক্ষ’ নাম ব্যবহার করে ওই চিঠিগুলোতে প্রতিটি পরিবারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণ সংশয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে সংযুক্ত একটি মুঠোফোন নম্বরে আজ রোববার বিকেলে বারবার যোগাযোগের প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা বন্ধ ছিল।

প্রথমে নারায়ণ কুমার পালের ছেলে অরুণ কুমার পাল তাঁর বাড়ির বারান্দায় চিঠিটি পান। পরে খবর পেয়ে দেখা যায়, একই পাড়ার অজামিল পাল, সুব্রত পাল, অধির পাল এবং ষষ্ঠী পালের বাড়িতেও অভিন্ন ভাষায় লেখা চিঠি এসেছে। চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘কোনো মানুষকে জানাবেন না, যদি কেউ জানতে পারে, তাহলে আপনাদের পরিবারের লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে।’ এতে আরও লেখা ছিল, ‘ভালো মনে বিশ হাজার টাকা দিয়ে দিবেন, মনে রাখবেন, জীবন গেলে যাবে আপনাদের পরিবারের।’

৫৫টি হিন্দু পরিবার অধ্যুষিত পালপাড়ায় এই ঘটনার জেরে তীব্র উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছে। লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভয় দূর হবে না।

সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল রাতেই ঘটনাস্থলে যায় এবং চিঠিগুলো জব্দ করে। থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তদন্ত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে আরম্ভ হয়েছে। পুলিশ জানায়, চিঠিতে উল্লেখিত মোবাইল ফোন ও বিকাশ নম্বরটি বর্তমানে সিলেট অঞ্চল থেকে রেজিস্ট্রেশন করা ছিল, কিন্তু সেটি বন্ধ অবস্থায় আছে। নম্বরটির কারবারি ও চিঠি পাঠানোর পেছনে জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলমান।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, ‘বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত চিঠির সূত্র ধরে অপরাধীদের খুঁজতে অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।’