আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই অধীনে কাজ করা একজন নারী আইনজীবী। সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ান আমানপোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে 'সারাহ' নামে পরিচিত ওই কর্মী দাবি করেন, করিম খান বারবার তার ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন, একবার কলম্বিয়ায় সরকারি সফরের সময় করিম খান তার হোটেল কক্ষে প্রবেশ করে ঘুমের ভান করার সময় তাকে স্পর্শ করেন। সারাহর ভাষ্যে, এটি ছিল 'উদ্দেশ্য হাসিলে একের পর এক চেষ্টা'র অংশ, যা ধীরে ধীরে তার ব্যক্তিগত সীমানা ভেঙে দেয়।

দ্বিতীয় আরেক নারী, যিনি 'প্যাট্রিসিয়া' ছদ্মনামে পরিচিত, তিনিও আমানপোরের মুখোমুখি হয়েছেন। তার মুখমণ্ডল আড়াল করে রাখা হয়েছিল। প্যাট্রিসিয়া আগে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২০০৯ সালে ইন্টার্নশিপের সময় করিম খানের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে তিনি বারবার অশালীন আচরণের শিকার হন। তার অভিযোগ, করিম খান তাকে জাপটে ধরতেন, আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করতেন এবং চুম্বন করতে বাধ্য করতেন।

করিম খানের আইনজীবী সারেতা আশরাফ এসব অভিযোগ 'পুরোপুরি' অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো নতুন নয় এবং বাস্তবতা ভিন্ন। আগামী ২৪ জুলাই ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে গণমাধ্যমে এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। সারেতা আশরাফ দাবি করেন, প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ ও জবানবন্দি ইতিমধ্যে সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনা অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে সামনে এলো। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আইসিসির ১২৫টি সদস্য দেশের নজিরবিহীন ভোটাভুটিতে করিম খানের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। গত মাসে সারাহর অভিযোগের ভিত্তিতে আইসিসির গভর্নিং বডি করিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং তার গুরুতর অসদাচরণের বিষয়টি সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠায়।

করিম খানের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনের প্রতিশোধ হিসেবে এই চক্রান্ত করা হতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন। তবে দ্য গার্ডিয়ানের কাছে থাকা নথি অনুযায়ী, তৃতীয় কোনো পক্ষ সারাহকে ব্যবহার করছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সারাহ মুসলিম এবং বর্তমানে আইসিসিতে কর্মরত। আমানপোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমি যদি কোনো গোয়েন্দা এজেন্ট হতাম, তবে আমাকে অনেক আগেই চাকরিচ্যুত করা হতো। আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, শুধু সেই কারণেই আমি অভিযোগ করেছি।' করিম খান ২০২১ সালে ৯ বছরের মেয়াদে আইসিসির প্রসিকিউশন বিভাগের দায়িত্ব পান, যা যুদ্ধাপরাধ ও নৃশংসতার তদন্ত করে। সারাহ ২০২৩-২৪ সালে তার বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করেন এবং ২০২৪ সালের শেষে অভিযোগ প্রকাশের পর তার কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।