ব্রাজিলের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জইর বলসোনারো বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে আগামী এক মাস কারও দেখা করার অনুমতি নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরাইস। গত শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি রায় দেন তিনি। এই সময়সীমার মধ্যে কেবল চিকিৎসা প্রদানকারী ব্যক্তি এবং আইনজীবীরাই তাঁর কাছে যেতে পারবেন।

আদালতের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে বলসোনারো পরিবারের এক সদস্যের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার। সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো, যিনি আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সম্ভাব্য, তিনি তাঁর পিতার লেখা একটি চিঠি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই চিঠিতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লিখেছিলেন, 'এখন সময় এসেছে সব মতভেদ ভুলে গিয়ে আমার ছেলের নির্বাচনী প্রচারণাকে সমর্থন করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।'

বিচারপতি মোরাইসের মতে, এই পোস্টটি বলসোনারোর গৃহবন্দী অবস্থার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তাঁর বর্তমান শর্ত অনুযায়ী, তিনি নিজে বা অন্য কারও মাধ্যমে কোনো টেলিফোন কল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন না। এই লঙ্ঘনের জেরেই নতুন করে ৩০ দিনের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

একই ঘটনায় ফ্লাভিও বলসোনারোর উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আগামী ৯০ দিন তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। ফ্লাভিও এই আদালতের সিদ্ধান্তকে 'নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা' বলে অভিহিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের নির্বাচনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন জইর বলসোনারো। এরপর অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গত বছর তাঁর ২৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড হয়। স্বাস্থ্যগত কারণে চলতি বছর তাকে কারাগারে না রেখে গৃহবন্দী রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিচারপতি মোরাইস আরও জানিয়েছেন, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলসোনারো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সাক্ষাৎ বা বক্তব্য দিতে পারবেন না। এই বিষয়ে এখনো সাবেক প্রেসিডেন্টের আইনজীবীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।