বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অনেকের কাছেই গুরুত্বহীন মনে হলেও, এবারের আসরে এটি চারজন ফুটবলারের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ নির্ধারণে এই ম্যাচের গোলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোল সরাসরি যোগ হয় টুর্নামেন্টের মোট গোল সংখ্যার সঙ্গে, যা গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে—দুজনেরই সংগ্রহ ৮টি করে গোল। তবে একটি বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন তারকা মেসি। তাদের পরেই রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, যার গোল সংখ্যা ৭টি; কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে তার দল বিদায় নেওয়ায় আর গোল বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম ৬টি করে গোল করেছেন, আর ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের ঝুলিতে ৫টি করে গোল রয়েছে। ফলে আগামীকাল ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু দলগত সম্মানের জন্যই নয়, বরং গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মোট সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী এই ম্যাচে গোল করেছিলেন, যাদের মধ্যে চারজন—জার্মানির টমাস মুলার (২০১০), ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকর (১৯৯৮), ইতালির সালভাতোরে শিলাচি (১৯৯০) ও ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮)—তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলের সুবাদেই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন। অন্যদিকে পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো (১৯৭৪), পর্তুগালের ইউসেবিও (১৯৬৬) ও ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও (১৯৫৮) এই ম্যাচে গোল করলেও তাদের গোল্ডেন বুট জয় নিশ্চিত ছিল।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, যদি একাধিক খেলোয়াড় সমান সংখ্যক গোল করেন, তাহলে প্রথমে বিবেচনা করা হয় অ্যাসিস্টের সংখ্যা। সেখানেও সমতা থাকলে দেখা হয় কে কম মিনিট খেলে গোল করেছেন। অর্থাৎ গোল্ডেন বুট নির্ধারণের ক্রম হলো—সর্বোচ্চ গোল, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট এবং সবচেয়ে কম খেলার সময়। এই কারণেই ফ্রান্সের এমবাপ্পে ও দেম্বেলে এবং ইংল্যান্ডের কেইন ও বেলিংহাম এখনো গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে টিকে আছেন। অন্যদিকে ফাইনালে নামবেন লিওনেল মেসি, যিনি ইতিমধ্যেই জানেন গোল্ডেন বুট জিততে তার কী প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল আগেই মন্তব্য করেছিলেন যে কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চান না, কারণ সবাই ফাইনালে খেলতে চান। তবে বাস্তবতা হলো, এই ম্যাচের ফলাফল শুধু তৃতীয় স্থানই নির্ধারণ করবে না, বরং গোল্ডেন বুটের ভাগ্যও অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে।