নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের ফাইনাল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব হিসেবে পরিচিত এই আসরে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা ও আবেগের সৃষ্টি করেছে। সবশেষে চূড়ান্ত লড়াইটি হবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
প্রায় ২১ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই স্টেডিয়ামে একসঙ্গে বসতে পারেন ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক। ফাইনালের দিন গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের চিৎকার ও গর্জনে পুরো নিউ জার্সি প্রকম্পিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ভেন্যুতে সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু বিশ্বকাপ নয়, কোপা আমেরিকার ফাইনাল, এনএফএলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ এবং রেসলম্যানিয়ার জমকালো লড়াইয়ের মতো বড় আয়োজনও দেখেছে মেটলাইফ। খেলার বাইরেও এটি বিনোদনপ্রেমীদের কাছে পরিচিত ঠিকানা। টেইলর সুইফট, বিটিএস, বিয়ন্সে ও ব্রুনো মার্সের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের কনসার্টে আলো ও সংগীতে রঙিন হয়েছে এই স্টেডিয়ামের রাত।
২০১১ সালে ২৫ বছরের নামকরণ-স্বত্ব চুক্তির মাধ্যমে ভেন্যুটির নামকরণ করা হয় মেটলাইফ স্টেডিয়াম। তবে মেটলাইফের পরিচয় শুধু স্টেডিয়ামের নামেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে মানুষের আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেও ৭৪ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে ২৪টি দেশেই মেটলাইফের উপস্থিতি রয়েছে।
১৯ জুলাই এই স্টেডিয়ামে রচিত হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে এক দলের হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, আরেক দলের বুকে সুর তুলবে স্বপ্নছোঁয়ার এক কদম দূরত্বে থাকা হাহাকার। গ্যালারিতে একদল মাতবে আনন্দ-উল্লাসে, আরেক দলের বেদনার অশ্রুতে ভাসবে চোখ। মাঠে কেউ হয়ে উঠবে জাতীয় বীর, আবার কেউ একটি ভুলের জন্য সেই রাতটি ভুলতে পারবে না আজীবন। সব আলো থাকবে বিশ্বজয়ী দলের ওপর। আর এত সব ঘটনা ও নতুন ইতিহাসের অবিচল দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে মেটলাইফ স্টেডিয়াম।

