১৯৭০ সালে মিউনিখের একটি ইহুদি আবাসিক হোমে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার মামলার নতুন মোড় এসেছে। জার্মান তদন্তকারীরা এখন বিশ্বাস করছেন যে, এই হামলার পেছনে একজন জার্মান নব্য-নাজি জড়িত ছিল বলে তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন।

ঘটনাটি ঘটে ১৯৭০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। মিউনিখের একটি ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজন প্রাণ হারান। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলাটি অমীমাংসিত ছিল। সম্প্রতি নতুন করে তদন্ত শুরু হলে প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে একটি নতুন সূত্রের খোঁজ পাওয়া যায়।

তদন্তে জানা যায়, ওই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন একজন নব্য-নাজি, যিনি ওই সময় জার্মানিতে সক্রিয় ছিলেন। তার নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্তকারীরা বলছেন, তিনি এখনও জীবিত আছেন এবং তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ জোগাড় হয়েছে।

বাভারিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান, আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছি। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে তার পরিচয় এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই ঘটনার ৫৬ বছর পরও আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।

ঘটনার পর থেকেই এই অগ্নিসংযোগকে ইহুদি বিদ্বেষী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালের ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন বেশ কয়েকজন বয়স্ক ইহুদি নাগরিক। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নাৎসি বন্দিশিবির থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন বলেও জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা ভবনটিতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালালেও সাতজনকে আর বাঁচানো যায়নি।

ওই সময় জার্মানিতে নব্য-নাজি সংগঠনগুলোর তৎপরতা বাড়ছিল। মিউনিখের এই হামলাকে সেই তৎপরতারই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে তৎকালীন তদন্তে কোনো সন্তোষজনক সমাধান আসেনি।

সম্প্রতি জার্মানির ফেডারেল অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং বাভারিয়ার স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে এই মামলাটি পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন করে নেওয়া ডিএনএ নমুনা ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন জার্মান নব্য-নাজি, যিনি তখন মিউনিখে অবস্থান করছিলেন।

তদন্তকারীরা জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স এখন প্রায় ৮০ বছর। তার বিরুদ্ধে সাতজনকে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হবে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তার নাম ও ঠিকানা এখন গোপন রাখা হয়েছে।

এই খবর প্রকাশের পর জার্মানির ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশা প্রকাশ করছেন যে, এই তদন্তের মাধ্যমে অবশেষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে কেউ কেউ বলছেন, এত বছর পর ঘটনার সঠিক বিচার পাওয়া কঠিন।

জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং তারা জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে বিষয়ে তারা সচেষ্ট থাকবে।