কলেজ ফুটবল মৌসুম শুরু হতে না হতেই নর্থ ক্যারোলাইনা টার হিলস দল ডাবলিনে টেক্সাস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির বিপক্ষে মাঠে নামবে। তবে জয়-পরাজয় যাই হোক, এই দলটি ইতিমধ্যেই একটি অভিজাত অবস্থানে পৌঁছে গেছে। রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে করদাতার অর্থে ক্রীড়া কর্মসূচি সচল রাখার যে নতুন প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তারা তারই অংশ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন অ্যাথলেটদের মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে প্রতিযোগিতা করছে, তখন অনেক অঙ্গরাজ্য তাদের চাপা পড়া ক্রীড়া বাজেটে অভূতপূর্ব উপায়ে সহায়তা করছে।
এই রাষ্ট্রীয় অর্থ সরাসরি তারকা অ্যাথলেটদের পকেটে যাচ্ছে না। তবে অবকাঠামো ও প্রশাসনিক খরচ বহন করে রাজ্যগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব তহবিলকে অন্য খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে। চ্যাপেল হিলে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাথলেটিক্স বিভাগ এই প্রথমবারের মতো রাজ্যের ক্রীড়া বেটিং কর থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার পাবে। উইসকনসিন আইনপ্রণেতারা ম্যাডিসনের বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্রীড়া খরচের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিয়েছেন। কানেকটিকাট এবং লুইজিয়ানাও একই পথে হাঁটছে, আরও বেশ কয়েকটি রাজ্য এ বিষয়ে বিবেচনা করছে।
অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির স্পোর্টস বিজনেস প্রোগ্রামের ফ্যাকাল্টি ডিরেক্টর ড্যানিয়েল ম্যাকইনটশের মতে, এটি একটি উদীয়মান প্রবণতা। তাঁর ভাষ্য, একবার কোনো রাজ্য এমন সহায়তা দিলে প্রতিযোগী রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধার কথা তুলে ধরতে পারে, যা আইনসভাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
এনসিএএ দীর্ঘদিন ধরে কলেজ অ্যাথলেটদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমর্থকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া নিষিদ্ধ রেখেছিল। কিন্তু মামলা ও রাজ্যগুলোর চাপের মুখে ২০২১ সালে এনসিএএ অ্যাথলেটদের নাম, প্রতিকৃতি ও সদৃশ (এনআইএল) ব্যবহারের বিনিময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ গ্রহণের পথ খুলে দেয়। এরপর গত বছর একটি আইনি নিষ্পত্তির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যক্ষভাবে অ্যাথলেটদের বছরে মোট ২০.৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের অনুমতি দেওয়া হয়, যা বৃত্তি ও অন্যান্য এনআইএল চুক্তির অতিরিক্ত। চলতি শিক্ষাবর্ষে এই সীমা ২১.৩ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং আগামী বছর আরও বাড়বে।
অনেক মাঝারি মানের প্রোগ্রামের পক্ষে এই বিপুল অর্থ বহন করা সম্ভব নয়। তবুও প্রায় সব এনসিএএ ডিভিশন ওয়ান প্রোগ্রামই প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অ্যাথলেটদের অর্থ দিতে আরও রাজস্ব আয়ের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, পুরনো ভৌগোলিক দ্বন্দ্ব ভেঙে কনফারেন্স পুনর্বিন্যাসের ফলে অবকাঠামো, কোচের বেতন ও ভ্রমণ খরচও বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত চার বছরে পাবলিক ডিভিশন ওয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রীড়া পরিচালনা ব্যয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে, যা রাজস্বের চেয়ে অনেক বেশি হারে বেড়ে ঘাটতি তৈরি করেছে।
মার্কিন সিনেটে বিচারাধীন প্রোটেক্ট কলেজ স্পোর্টস অ্যাক্টকে কলেজ ক্রীড়া ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এটি সম্ভবত বিদ্যালয়গুলোর ব্যয় আরও বাড়াতে পারে। সর্বশেষ সংস্করণ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো রোস্টারে খেলোয়াড় ধরে রাখতে বছরে অতিরিক্ত ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার দিতে পারবে, যা মোট অ্যাথলেট পেমেন্টের সীমা প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেবে। এই উচ্চ সীমা তৃতীয় পক্ষের এনআইএল চুক্তির চাহিদা কমাতে পারে। তবে নাইট কমিশন অন ইন্টারকলেজিয়েট অ্যাথলেটিক্সের সিইও অ্যামি প্রিভেট পার্কোর মতে, এই আইনে রাজ্য ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের ক্রীড়া তহবিল বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের কোনো বিধান নেই। ম্যাকইনটশ সতর্ক করে বলেছেন, অন্তর্নিহিত ব্যয় প্রতিযোগিতায় কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকলে অতিরিক্ত সরকারি অর্থ কেবল অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরবর্তী পর্যায়ে জ্বালানি যোগাবে।
রাজ্যগুলো নানা সৃজনশীল উপায়ে অর্থ পাঠাচ্ছে। ২০২৪ সালে নর্থ ক্যারোলাইনা অনলাইন স্পোর্টস বেটিং চালু করার সময় ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাথলেটিক বিভাগের জন্য করের একটি অংশ নির্ধারণ করে। তবে চ্যাপেল হিল ও নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট — এই দুই বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জুলাইয়ে নতুন রাজ্য বাজেটে স্পোর্টস বেটিং কর বাড়ানো হলে এই দুই স্কুল এবার ৩ মিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছর ৫.৮ মিলিয়ন ডলার পাবে। লুইজিয়ানাও স্পোর্টস ওয়েজারিং কর বাড়িয়ে ডিভিশন ওয়ান ফুটবল প্রোগ্রাম আছে এমন ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটিতে প্রায় ২.২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।
কানেকটিকাট আইনপ্রণেতারা ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটকে অনুদান, স্পনসরশিপ ও লাইসেন্সিং সমর্থনের অর্ধেক পরিমাণ রাজ্য ট্যাক্স ক্রেডিটের ভাউচার ইস্যু করার অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম চার মাসে এই কর্মসূচি ১.৭ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব এনেছে। নিউ জার্সির নতুন বাজেট রাটগার্সের মূল ক্যাম্পাসে “ইভেন্ট আকর্ষণ ও বিপণনের” জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এই অর্থ ক্রীড়া কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হবে কিনা তা নিশ্চিত করেননি। ফ্লোরিডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গভর্নিং বোর্ড নতুন কোনো অর্থ না দিলেও গত বছর প্রতিষ্ঠানগুলোকে অ্যাথলেটিক্সে ২২.৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটি সঙ্গে সঙ্গে তা করেছে এবং অন্যরাও অনুসরণ করেছে।
উইসকনসিনের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা অ্যালেক্স ডালম্যান বলেন, ম্যাডিসন ক্যাম্পাসের ক্রীড়া অবকাঠামোর ঋণ পরিশোধে ১৪.৬ মিলিয়ন ডলার এবং মিলওয়াকি ও গ্রিন বে ক্যাম্পাসে ২০০ হাজার ডলার করে বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে এই রাজ্য অর্থ অ্যাথলেটদের কাছে যাবে না, তবে অবকাঠামো ঋণ মেটানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব তহবিল এনআইএল বা প্রতিযোগিতায় ব্যবহার করতে পারবে। তিনি যুক্তি দেখান, ক্রীড়ায় অস্বস্তিকর অবস্থা রাজ্যের জন্য সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর, তাই রাজ্য হিসেবে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




