২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আশ্রয়ে আছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অবস্থান জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সাংবাদিকরা শেখ হাসিনার ফেরা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানান, সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং তিনি এলে তাকে স্বাগত জানানো হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, 'আমরা শেখ হাসিনার ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আসলে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। এই কথাই আমরা শুরু থেকে বলে আসছি।' তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ব্যাপারে বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে চলবে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাই হোক, সরকার তা মেনে নেবে।
চলতি বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আদালত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত দিতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। উপদেষ্টা বলেন, 'তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তিনি আসবেন। আমরা তাকে প্রত্যর্পণ করে আনার চেষ্টা করছি।'
জনগণের প্রত্যাশার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষ চায় মৃত্যুদণ্ড যেন বহাল থাকে এবং তা কার্যকর হয়। তবে তিনি এ-ও বলেন, যদি আদালতে শেখ হাসিনা প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি অপরাধী নন, তাহলে আদালত অন্য শাস্তি দিতে পারে বা তাকে খালাসও দিতে পারে। সেটাও জনগণ মেনে নেবে। 'স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া চলবে,' বলে জোর দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং অন্যান্য মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে তার প্রত্যর্পণ চেয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।



