বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান না থাকার সরকারি যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০২৬ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা নয়; বরং তা ২০২৯ সালে হওয়ার কথা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে অথচ ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে। অথচ গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা জনগণের সুস্পষ্ট অভিপ্রায়।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং বিরোধী দলও তা সমর্থন করেছিল। সরকারি দলও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। গণভোটের রায় অনুযায়ী দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল—একটি সংসদ সদস্যের, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের। বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য উভয় শপথ নিলেও সরকারি দল শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
‘জনগণের অভিপ্রায় সর্বোচ্চ আইন’ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় নেওয়ার পর জনগণের অভিপ্রায়েই নতুন সরকার গঠিত হয়েছিল এবং সেই সরকারের জারি করা আদেশের ভিত্তিতেই গণভোট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গোশত হালাল আর ঝোল হারাম’—একটি যদি হালাল হয়, অন্যটি হারাম হয় কীভাবে? সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে কোনো সরকারি দল বা বিরোধী দল নেই বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের অভিপ্রায়ের এক অংশ মানছে, আরেক অংশ মানছে না।
শফিকুর রহমান জানান, তাদের অনেক আপত্তি থাকা সত্ত্বেও শান্তি ও গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে তারা জাতীয় নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অভিপ্রায়কে অস্বীকার করা সম্ভব নয়। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে ও রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ‘১৮ কোটি মানুষের রায়, স্বার্থ ও অধিকার উপেক্ষিত হবে আর বিরোধী দল বসে বসে সংসদে সমর্থন দেবে—সেই বিরোধী দল আমরা নই,’ বলেন তিনি। ভালো উদ্যোগে সমর্থন দিলেও জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে রুখে দাঁড়ানোর কথা জানান জামায়াত আমির।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি ১৯৯৪ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, তখন সরকার অনুরোধ আমলে না নিলেও শেষ পর্যন্ত একটি বিল পাস করে বিদায় নিয়েছিল। বর্তমান সরকার যাতে পাঁচ বছর পরে এসে একই কাজ না করে, বরং এখনই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে তা তিনি চান। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে বর্তমান অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেওয়া।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, বিরোধী দল সব সময় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। সরকারি দল সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধনের জন্য কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। আজ সংসদে সেই কমিটি ঘোষণা করা হলে বিরোধী দল নৈতিক সমর্থন না থাকায় ওয়াকআউট করে।
উল্লেখ্য, সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দল সংসদ থেকে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।



