সংসদীয় ককাস মূলত একটি অনানুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়, নীতি বা দেশকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। এটি সংসদের কোনো স্থায়ী কমিটি বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। এর কাজ হলো নির্দিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় করা, আলোচনা ও জনমত গঠন, নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এ ধরনের ককাস দেখা যায়। যুক্তরাজ্যে একে ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ’ বলা হয়, আর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অসংখ্য ককাস রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস’ গঠিত হয়েছিল, যা দুই দেশের সুসম্পর্ক জোরদারে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছিল।
বাংলাদেশের সংসদেও বিষয়ভিত্তিক ককাস নতুন কিছু নয়। অষ্টম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদে বিভিন্ন ককাস ছিল। দশম সংসদে রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে নৃগোষ্ঠীবিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠিত হয়েছিল। পরে একাদশ সংসদে ফজলে হোসেন বাদশা এই ককাসের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া ২০১৭ সালে দশম সংসদে ইসরাফিল আলমের নেতৃত্বে অভিবাসন ও উন্নয়নবিষয়ক বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস গঠিত হয়, যা ২০২০ সালে শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে সভাপতি করে পুনর্গঠন করা হয়।
সাম্প্রতিক আলোচনার সূত্রপাত ৪ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’। ওই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে এবং ধন্যবাদ জানায় ‘ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশের ককাস অব আমেরিকা’কে। এ থেকেই জানা যায়, বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কয়েকজন সংসদ সদস্য ‘ককাস অব আমেরিকা ইন ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ’ নামে একটি ককাস গঠন করেছেন।
এই ককাসের চেয়ারম্যান বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ওসমান ফারুক। ১০ সদস্যের এই ককাসে বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা রয়েছেন। ৪ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে ওসমান ফারুক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ককাসের সদস্য মাহবুবুর রহমান, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, নওশাদ জমির, নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম ও মারদিয়া মমতাজ। এনসিপির আখতার হোসেন ও বিএনপির আন্দালিভ রহমানও এই ককাসের সদস্য বলে জানা গেছে।
ওসমান ফারুক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এটি একটি সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ, রাজনৈতিক নয়। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধুত্ব জোরদার করাই এর লক্ষ্য। তবে সংসদবিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, ককাস কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আন্তদলীয় সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ককাস নির্দিষ্ট বিষয়কে সামনে আনতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু ‘ককাস অব আমেরিকা’র লক্ষ্য ও কর্মপরিধি এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ককাসের ধারণা বিদ্যমান থাকলেও বর্তমান উদ্যোগটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।




