আওয়ামী লীগের বিষয়ে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো বিভেদ নেই—এমন মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান। সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণতন্ত্র মঞ্চ—সবাই একই অবস্থানে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘আওয়ামী লীগ ইস্যুতে আমরা সবাই ভাই ভাই, সবার রক্তের গ্রুপ এক।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য স্পষ্ট। এ ক্ষেত্রে জামায়াতকে তিনি বন্ধু হিসেবে দেখলেও জুলাই সনদ বাদ দিলে জামায়াতের সঙ্গেও কোনো জোট বা বন্ধুত্ব থাকবে না বলে জানান।

পোস্টে মজিবুর রহমান আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সব পক্ষ রাজপথ, রিমান্ড ও কারাগারে একসঙ্গে ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হলে সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে গুরুতর বিভেদ দেখা দেয়। এবি পার্টি, এনসিপি ও গণতন্ত্র মঞ্চ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করলেও বিএনপির অবস্থান অস্পষ্ট ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও পড়ে—বিএনপি-সমর্থিত জোট ও জামায়াত-প্রভাবিত ১১-দলীয় জোট আলাদা হয়ে যায়। তখন এবি পার্টি ও এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যোগ দেয় এবং বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়।

এদিকে, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার এবং শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, কৌশলগতভাবে তাদের ফিরিয়ে এনে আইনগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক—সব দিক থেকে বিচারের ব্যবস্থা করা উচিত। বর্তমানে সংসদ কার্যকর থাকায় এই দায়িত্ব সরকার ও বিরোধী দলের। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ৫ আগস্টের মতো বিচারের ভার জনগণের হাতে চলে যেতে পারে।

পোস্টে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পূর্ণাঙ্গ সাফল্যের জন্য বিএনপি-জামায়াত ও সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে অন্তত পাঁচ বছর ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শেখ হাসিনার কথিত আগমন ও আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা কাজে লাগানো উচিত। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে মজিবুর রহমান জানান, এই স্ট্যাটাসের উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধতার বার্তা দেওয়া।

প্রসঙ্গত, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের জোটে না থাকলেও রাজপথে এবি পার্টির সঙ্গে বিএনপির কিছুটা সখ্য তৈরি হয়েছিল। তবে জামায়াত নেতারা অনেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও আসেননি বলে মজিবুর রহমান উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে, তাঁর বক্তব্যে বিরোধী শক্তির ঐক্যের গুরুত্ব ও জুলাই সনদের প্রতি অঙ্গীকার স্পষ্ট হয়েছে।