পেশাদার ক্রিকেটের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। গ্লোবাল সুপার লিগের তৃতীয় আসরের ফাইনালে মাত্র ৮৬ রানের লক্ষ্য নিয়েও সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের বিপক্ষে ম্যাচটি তারা নিজেদের করে নেয়। টসে পরাজিত হয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েও শেষ মুহূর্তে বোলারদের অসামান্য নৈপুণ্যে গায়ানা ৬ রানের নাটকীয় জয় ছিনিয়ে আনে। কোনো পেশাদার টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপা লড়াইয়ে এত অল্প রান সামলে জয়য়ের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

আগ্রে ইনিংসে শুরুতেই ধস নামে গায়ানার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপে। সান ফ্রান্সিসকোর ৪১ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় পেসার পিটার সিডলের গতি ও সুইংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তারা। প্রথম চার ওভারের মধ্যে জনসন চার্লস, শিমরন হেটমায়ার ও মোহাম্মদ হারিসের তিনটি অমূল্য উইকেট তুলে নেন তিনি, খরচ করেন মাত্র ১৮ রান। নবম ওভার শেষ হওয়ার আগেই স্কোরবোর্ডে রান উঠেছিল ২৯, কিন্তু তখনই ৮টি উইকেট পতন হয়ে যায়। শীর্ষ আট ব্যাটারদের কেউই দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হননি। দৃশ্যটি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, দলটি ৫০ রানের গণ্ডিও পার করতে পারবে কি না, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়।

তবে শেষ প্রান্তের ব্যাটারদের কল্যাণে সম্মানজনক একটি পুঁজি গড়ে তোলে গায়ানা। দশ নম্বরে নামা ম্যাথু ফোর্ড দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৮ রানের ইনিংস খেলেন। তার পাশাপাশি নয়ে নামা ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন এবং অধিনায়ক ইমরান তাহির যোগ করেন ১১ রান। তাতে নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই দলের ইনিংস থেমে যায় ৮৫ রানে।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বাধার মুখে পড়ে সান ফ্রান্সিসকো। ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের প্রথমই বলটিতে নিউজিল্যান্ডের টিম রবিনসন ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। কিন্তু এরপর দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা ৫৩ রান সংগ্রহ করে এবং জয়ের পথেই ছিল। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে পরবর্তী মাত্র ৫ রান যোগ করতে গিয়ে তারা ৫টি উইকেট হারিয়ে ফেলে। পিটার সিডল ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন, তবি তা দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। গায়ানার হয়ে প্রিটোরিয়াস ও মোহাম্মদ নবী ৩টি করে উইকেট দখল করেন। ইমরান তাহিরও পান ২টি উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ধ্বংসাত্মক বোলিং করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ১৭ রান করা প্রিটোরিয়াস।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করা গ্লোবাল সুন্দর লিগের বর্তমান আসরটি তৃতীয়। এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি নিজেদের ঘর তাকে গায়ানা। প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশের রংপুর রাইডার্স।