গত বছরের ১২ জুন আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি। টেকঅফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। একটি মেডিকেল কলেজের ডাক্তারদের আবাসনের ওপর বিমানটি আছড়ে পড়লে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিমানে থাকা ২৪১ আরোহী এবং মাটিতে থাকা ১৯ জন মিলিয়ে মোট ২৬০ জনের প্রাণহানি ঘটে। প্রাণে বেঁচে যান কেবল লেস্টারের বাসিন্দা বিশ্বকুমার রমেশ।

এর আগে প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, টেকঅফের পরপরই জ্বালানি নিয়ন্ত্রণের সুইচ 'কাট-অফ' অবস্থানে চলে গিয়েছিল। তাতে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমানটি পুরোপুরি শক্তি হারায়। ককপিটের অডিও রেকর্ডিংয়ে একজন পাইলট অপরজনকে কেন এমন করলেন বলে প্রশ্ন করেন, জবাবে অপর পাইলট দাবি করেন তিনি তা করেননি। তবে প্রতিবেদনে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ককপিটে থাকা সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভেরওয়ালের দিকেই তদন্তের নজর রয়েছে। এই প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা জানায় ভারতীয় পাইলট সংগঠন এবং এএআইবি। এমনকি ক্যাপ্টেন সাভেরওয়ালের বাবা একটি স্বাধীন তদন্তের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা (এএআইবি) সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দাখিল করে। এতে সংস্থাটি জানায়, দুর্ঘটনার খসড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন অক্টোবর নাগাদ প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে তারা তদন্তের 'বিশ্লেষণ পর্বে' আছে এবং এই প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে। কোনো তদন্তকারী ফলাফল বা প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সূচি হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

হলফনামায় আরও জানানো হয়, গুরুতর বিমান দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য নির্ধারিত ৬৬টি ধাপের মধ্যে ৪৯টির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে এএআইবি। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনাস্থল ও ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন, ফ্লাইট রেকর্ডার সংগ্রহ, ক্রু সদস্যদের চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ নথি পর্যালোচনা। পাশাপাশি সাংগঠনিক সংস্কৃতি, মানবিক কারণ এবং নিরাপত্তা বিষয়ক অনুশীলনেরও পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারীরা একজন বিমান মনোবিদ দিয়ে ক্রু সদস্যদের মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন করিয়েছেন, যার চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে সংস্থাটি। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের একটি লিখিত বিবরণী তৈরি করা হলেও সেটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

আদালতে জবাবি হলফনামায় পাইলটদের নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এএআইবি। সংস্থাটি বলেছে, "গণমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনা এবং পাইলটদের দায়োপাত্তির যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তাতে কিছু সাক্ষী সংযত হয়েছেন এবং অনেকে সহযোগিতাহীন হয়ে পড়েছেন," যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।