কেনিয়ার সর্বোচ্চ আদালত রাস্তাফারি সম্প্রদায়ের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গাঁজা সেবনের আইনি স্বীকৃতি চেয়েছিল। বিচারক বাহাতি মোয়ামুয়ে জানিয়েছেন, গাঁজার ওপর নিষেধাজ্ঞা যে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের অধিকার লঙ্ঘন করে—সেটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে আবেদনকারীরা। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে গাঁজা নিয়ে আরও বিস্তৃত জাতীয় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। "গাঁজা নিয়ে আমাদের খোলামেলা কথা বলা উচিত এবং আমরা কোন দিকে যেতে চাই তা ঠিক করা উচিত," বলেন বিচারক মোয়ামুয়ে। তিনি আরও যোগ করেন, "এটি শুধু রাস্তাফারি সম্প্রদায়ের প্রশ্ন নয়; এটি একটি জাতীয় প্রশ্ন যা আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরকে স্পর্শ করে।"

কেনিয়ার রাস্তাফারি সোসাইটি তাদের আবেদনে যুক্তি দিয়েছিল যে গাঁজা তাদের ধর্মের একটি পবিত্র ধর্মীয় উপাদান। তারা অনুমতি চেয়েছিল যাতে অনুসারীরা ব্যক্তিগতভাবে এবং নির্ধারিত উপাসনালয়ে গাঁজা চাষ, রাখা ও ব্যবহার করতে পারেন গ্রেফতারের ভয় ছাড়া। সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানায় যে তারা গাঁজার সম্পূর্ণ বৈধকরণ চায় না, বরং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে একটি সীমিত ছাড় কেবল ব্যক্তিগত বাড়ি ও নির্দিষ্ট উপাসনালয়ে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের বিরোধিতা করে জানায় যে ধর্মীয় ছাড় দেওয়া হলে কেনিয়ার মাদকবিরোধী আইনের প্রয়োগ দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বেআইনি গাঁজা পাচারের ফাঁক তৈরি হবে। বিচারক মোয়ামুয়ে দেখতে পান যে রাস্তাফারি ধর্মে গাঁজার কেন্দ্রীয় ভূমিকা সম্পর্কে উপস্থাপিত প্রমাণ অসংগত ও অপর্যাপ্ত ছিল; ফলে এটি প্রমাণ করা যায়নি যে গাঁজা ব্যবহার ধর্মের অপরিহার্য অংশ। তিনি মাদক আইনের সাংবিধানিকতা বহাল রেখে গাঁজার চাষ, দখল ও ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দেন। এটি রাস্তাফারিদের ছয় বছরের আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা।

কেনিয়ার মাদকদ্রব্য ও মানসিক পরিবর্তনকারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী গাঁজার দখল ফৌজদারি অপরাধ। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাঁজা রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৮০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। গাঁজা চাষের শাস্তি ১,৯০০ ডলার জরিমানা বা গাছের বাজারমূল্যের তিন গুণ (যেটি বেশি) এবং/অবা ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। পাচার ও অন্যান্য মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

রাস্তাফারি সম্প্রদায়ের আইনজীবী ড্যানস্টান ওমারি বলেছেন যে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। "কেনিয়া একমাত্র দেশ হতে পারে না যে রাস্তাফারি জনগণকে হয়রানি করছে। আমরা এই রায় উল্টে দিতে এবং কেনিয়ায় রাস্তাফারিদের মর্যাদা ও সম্মান ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ," তিনি বলেন।

এই রায়ের সাত বছর আগে আরেকটি হাইকোর্ট রায়ে রাস্তাফারিবাদকে কেনিয়ায় একটি সুরক্ষিত ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় একটি স্কুলের ছাত্রীকে তার ড্রেডলক্সের কারণে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন বলে রায় দেয় আদালত। কেনিয়ায় রাস্তাফারিদের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই আন্দোলন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করা হয়। ড্রেডলক্স পরার ঐতিহ্য কেনিয়ার ঔপনিবেশিকবিরোধী ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িত; ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা মাউ মাউ যোদ্ধাদের অনেকেই প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে লম্বা ও জটানো চুল রাখতেন।