ফেডেক্সের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেড স্মিথের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এখন কোম্পানির দ্বিতীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ সুব্রামানিয়াম নিজস্ব পথে এগিয়ে চলেছেন। ফরচুনের সম্পাদক-ইন-চিফ অ্যালিসন শনটেল নিউ ইয়র্ক থেকে লিখেছেন, ‘আপনি যদি পরিবর্তন পছন্দ না করেন, তাহলে বিলুপ্তিকে ঘৃণা করতে শিখুন’—এই কথাটি দিয়েই সুব্রামানিয়াম তার দলকে অনুপ্রাণিত করেন, বিশেষ করে অনিশ্চিত সময়ে। তিনি সাম্প্রতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে সৃষ্ট জটিলতাকে—যা ভূরাজনৈতিক সংঘাত, শুল্ক ও অন্যান্য কারণে সৃষ্ট—‘পুনর্বিশ্বায়ন’ (রি-গ্লোবালাইজেশন) নামে অভিহিত করেছেন। প্রতিদিন প্রায় ১৯ মিলিয়ন প্যাকেজ পরিবহন করে ফেডেক্স, আর তাই এই পরিবর্তনের সামনের সারিতে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত জুন মাসে ফেডেক্সের মেমফিস সদর দফতরে ফরচুনের ‘টাইটানস অ্যান্ড ডিসরাপ্টরস’ পডকাস্টের জন্য সুব্রামানিয়ামের সাক্ষাৎকার নেন শনটেল। সেখানে তিনি জানান কীভাবে তিনি এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী দেখছেন। এছাড়া আলোচনা হয় তার ক্যারিয়ারের গল্পও—ফেডেক্সে এন্ট্রি-লেভেল থেকে শুরু করে কয়েক দশকের চড়াই উৎরাই পেরিয়ে শীর্ষ পদে পৌঁছানো।

সুব্রামানিয়াম, যিনি কোম্পানির ৫৩ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় সিইও, প্রথমবারের মতো তার পরামর্শদাতা ও অভিভাবক ছাড়াই কাজ করছেন। এক বছর আগে ৮০ বছর বয়সে মারা যান প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেড স্মিথ। একজন কিংবদন্তি প্রতিষ্ঠাতার কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়া—যা সুব্রামানিয়াম ২০২২ সালে করেছিলেন—একটি বড় সম্মানের বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ‘আমি সবসময় বলি, আমি দূরে দেখতে পাই কারণ আমি এক দৈত্যের কাঁধে দাঁড়িয়ে আছি,’ তিনি বলেন। সেই দৈত্যটি তাকে বছরের পর বছর ধরে শীর্ষ পদের জন্য প্রস্তুত করেছিল। ফেডেক্সের প্রেসিডেন্ট ও চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতর দিয়ে ওপরে উঠে এসেছেন।

তবে যেকোনো সিইও-ই জানেন, এমনকি সবচেয়ে সুপরিকল্পিত নেতৃত্ব পরিবর্তনও সহজ নয়। সুব্রামানিয়াম স্মরণ করেন, ‘যখন সময় এল, আমি বললাম, “আমি এটা করতে পারব।” কিন্তু না, সবকিছু বদলে গেল… এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্তর।’ চারদিক থেকে অনুরোধ ও দাবি আসতে শুরু করলে তাকে প্রায়ই ‘না’ বলতে হতো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে তিনি নিজের জন্য একটি সিইও চাকরির বিবরণ ও কেপিআই তৈরি করার জন্য সময় বের করলেন।

এর মধ্যে একটি ছিল প্রতিষ্ঠাতার গড়া সংস্কৃতির রক্ষক হওয়া। সিইও পদে আসীন হওয়ার পর স্মিথের সঙ্গে তার কথোপকথনের কথা তিনি স্মরণ করেন: ‘আমি তাকে বলেছিলাম, অনেক কিছু বদলাতে পারে—নতুন প্রযুক্তি আসতে পারে, নতুন লোক আসতে পারে, আমরা নতুন কোম্পানি কিনতে পারি। কিন্তু একটা জিনিস বদলাবে না—ফেডেক্সের সংস্কৃতি। আর এ কারণেই আমি এখানে কাজ করতে এসেছি।’ ফেডেক্সের এআই-চালিত ডেটা ব্যবসার অপ্রত্যাশিত উৎপত্তি নিয়েও আলোচনা হয়—একজন তরুণ কর্মচারী সরাসরি সিইও-কে প্রস্তাব দিয়ে এটি শুরু করেছিলেন। পুরো কথোপকথন শোনা যাবে ফরচুনের পডকাস্টে। এই প্রতিবেদনটি ফরচুন ডট কম-এ প্রথম প্রকাশিত হয়।