সিলেটের খাদিমনগরে এক ভ্রমণের সময় অপ্রত্যাশিতভাবে টক আতা ফলের সন্ধান পান কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায়। শুকতারা রিসোর্টের কটেজের ব্যালকনির কাছেই বৃষ্টির পর লনের প্রান্তে একটি অচেনা গাছের টানে কাছে গিয়ে তিনি একটি বড় টক আতার ঝোপ এবং তাতে ঝুলতে থাকা বেশ কয়েকটি ফল দেখতে পান। গাছের তলায় পোড়ে যাওয়া একটি প্রায় পাকা ফেল কুঁড়িয়ে নেওয়ার পরের দিন তা খাওয়ার উপযোগী হলে তিনি এই বিরল ফলটির স্বাদ গ্রহণ করেন। ফলের ভেতরের সাদা শাঁসটি ছিল টক-মিঠে, যা আতার মতো নোনতা মিঠে নয়। কিন্তু সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয় এর ঘ্রাণ থেকে, যেখানে তিনি একযোগে আম, স্ট্রবেরি ও আনারস—এই তিনটি ফেলের সুবাস পেয়েছেন। এই ভ্রমণের কিছুদিন পর ঢাকায় ফিরে নিজের বাড়ির ছাদেও এক প্রতিবেশীর লাগানো টক আতার গাছের দেখা মিললেও তাতে ফল ছিল না। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের অধ্যাপক ড. মনিরুলের সাথে তাদের গবেষণা মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে আরও কিছু বয়স্ক টক আতার গাছ ও তার কাঁচা ফল দেখতে পান। সেখানের এক তথ্যে জানা যায়, গাছটির পাতা ক্যানসার নিরাময় করতে পারে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার ছড়ানোর পর ‘করোসলগাছ’ নামে এর ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এই দাবির সত্যতা জানতে কৌতুহলবশত গবেষণা করতে গিয়ে লেখক এমন কোনও তথ্যসূত্র খুঁজে পাননি যা প্রমাণ করে যে টক আতা ক্যানসার প্রতিরোধ বা নিরাপাম করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থাও ক্যানসারের চিকিৎসায় এর কোনও অনুমোদন দেয়নি। তবে এই ফলের যেসব পুষ্টিগুণ বিদ্যমান, তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করলেও পাতা নয়। অবশেষে চলতি বছরের ১ আগস্ট রাজধানীর ছাদে ওই টক আতার গাছটিতে বড় হওয়া পাকা না হওয়া ফল দেখতে পেলেন তিনি। টক আতা, যার ইংরেজি নাম সাউয়ারসপ ও বৈজ্ঞানিক নাম Annona muricata, আতা ও শরিফার মত একই অ্যানোনেসি গোত্রের একটি আলাদা প্রজাতি। ছোট আকৃতির এই বৃক্ষের মসৃণ কাণ্ড ও রোমশ কচি ডাল, এবং চকচকে সবুজ ডিম্বাকার থেকে আয়তাকার পাতার নিচের পিঠটি রোমশ ও অনুজ্জ্বল। ফেলটি গোলগাল না হয়ে কিছুটা বাঁকানো হৃদয়াকৃতি এবং সবুজ খোসা কাঁটায় ভরা, যা পেকে গেলে হলদে সবুজ বর্ণ ধারণ করে। মেক্সিকো থেকে আসা এই ফেলের গাছ বসতবাড়ির বাগানে লাগানো যায় এবং পাকা ফলের শাঁস দিয়ে আইসক্রিম ও ডেজার্ট তৈরি করা সম্ভব।
এক ফলের ঘ্রাণেই আম, স্ট্রবেরি ও আনারসের উপস্থিতি: টক আতার বিস্ময়কর জগৎ
সিলেট ভ্রমণে টক আতা ফলের অপ্রতিরোধ্য ঘ্রাণে বিস্মিত হন এক কৃষিবিদ। এই ফলের পুষ্টিগুণ রয়েছে, কিন্তু ক্যানসার সারানোর দাবিটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।



