রাজধানীর মিরপুর ও ভাটারা থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহ আল ইসলাম ওরফে জ্যাকবকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুলিশের পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ মঞ্জুর করেন।

ভাটারা থানার মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালত আবদুল্লাহ আল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল প্রথম আলোকে জানান, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাহমুদ হাসানের আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভাটারা থানার সামনে পদচারী সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ইমন নামের এক আন্দোলনকারী দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। প্রাথমিক তদন্তে আবদুল্লাহ আল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে অন্য আসামিদের সঙ্গে আন্দোলন দমনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা এবং অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অপরদিকে, মিরপুর থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই মো. আশরাফুৎদৌলা আবদুল্লাহ আল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল থেকে বাদী মো. রিফাত হোসেন মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন। দুপুরে আসামিদের নির্দেশে ৩০ থেকে ৪০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন। এতে রিফাতের ডান হাঁটুর ওপরে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে অন্য আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা থেকে গুলি অপসারণ করা হয়।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে গ্রেপ্তার করে। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আজকের আদেশের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার তালিকায় আরও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা যুক্ত হলো।