মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আধারা ইউনিয়নের মিজিকান্দি গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাঁধে। ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বোরহানউদ্দিন ও তাঁর প্রতিবেশী সরাফত আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সকালে বোরহানউদ্দিন পক্ষ বিরোধপূর্ণ জায়গায় ঘর তুলতে শুরু করলে সরাফতের লোকজন বাধা দিলে প্রথমে কথা-কাটাকাটি, পরে পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নেয়। সংঘর্ষের পর স্থানীয় লোকজন আহতদের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানেও বোরহানউদ্দিনের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুহুল আমীন জানান, আহতদের মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সন্ধ্যায় আরও একজনকে ঢাকায় নেওয়া হয়। বোরহানউদ্দিনের ছেলে শরিফ মিজির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতভিটা দখলের চেষ্টায় সরাফতরা হামলা ও মামলা করে আসছিল। আজ সকালে নিজেদের জায়গায় ঘর তোলার সময় সরাফত সরকার পাশের গ্রামের আলমগীর-দুলালদের ভাড়া করে এনে হামলা চালায়। তিনি বলেন, ‘তারা গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে। আমার ভাই জাহাঙ্গীর মিজিকে কুপিয়ে আহত করে। হাসপাতালেও আমাদের ওপর হামলা হয়। আমরা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি।’ অন্যদিকে, সরাফত আলী সরকার পাল্টা দাবি করেন, ‘আমরা কাউকে আক্রমণ করিনি; বোরহানরাই আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে।’ তাঁর মতে, তাদের রেকর্ডভুক্ত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন, তখন বোরহান মিজির ছেলেরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ওসি তছলিম উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।