পোশাক ড্রাই ক্লিনে দেওয়া বেশ ব্যয়বহুল এবং ঝামেলার ব্যাপার হওয়ায় অনেকে এর বিকল্প খোঁজেন। অনেকের কাছেই অজানা যে বাড়িতেই যত্নসহকারে এসব পোশাক পরিষ্কার করা সম্ভব। গরম ও বর্ষাকালে এই ধরনের পোশাক একবার পরলেই ধোয়ার প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু নিয়ম মেনে বাড়িতেই সেগুলো পরিষ্কার করা যায়।
‘বিবিয়ানা’র স্বত্বাধিকারী ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকারের মতে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিদিনের পোশাক ড্রাই ওয়াশ করা কার্যকর নয়। তিনি বলেন, সব কাপড়ের জন্য ড্রাই ওয়াশ জরুরি নয়; বরং কাপড়ের প্রকৃতি বুঝে বাড়িতেই ধোয়া সম্ভব। শুধুমাত্র জামদানি বা কাতানের মতো অত্যন্ত মূল্যবান শাড়ি লন্ড্রিতে ড্রাই ওয়াশ করানো যেতে পারে। সিল্কের পোশাকের ক্ষেত্রে তিনি জানান, নির্দেশনায় ড্রাই ওয়াশ লেখা থাকলেও শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়া নিরাপদ। শ্যাম্পুতে কোনো শক্তিশালী ডিটারজেন্ট না থাকায় কাপড়ের উজ্জ্বলতা ও রং অটুট থাকে।
সুতি বা লিনেন কাপড়ের জন্য বিষয়টি আরও সহজ। এসব কাপড় সাধারণ সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়েই ধোয়া যায়। তবে প্রিন্টযুক্ত কাপড়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। লিপি খন্দকারের পরামর্শ, ব্লক প্রিন্ট বা স্ক্রিনপ্রিন্ট কাপড় গা ধোয়ার সাবান দিয়ে ধোয়া ভালো, কারণ কাপড় ধোয়ার সাবানে ক্ষারের পরিমাণ বেশি থাকে। তাঁর মতে, সাধারণ সিল্ক বা সুতির পোশাকের জন্য ড্রাই ওয়াশ আবশ্যক নয়। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের জরিপাড় ছাড়া অন্যান্য সুতির শাড়ি সাবান দিয়ে ধুয়ে নেওয়া যায়। ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে ইস্তিরি করলে কাপড়ের সৌন্দর্য বজায় থাকে।
‘সরলা’র স্বত্বাধিকারী মানসুরা ইয়াসমিন কিছু কাপড়ের জন্য অতিরিক্ত সচেতনতার কথা জানান। তিনি বলেন, যে সব কাপড়ে আলাদা রং ব্যবহার করে ব্লক বা স্ক্রিনপ্রিন্ট করা হয়, সেগুলো বারবার ধোয়ায় রং নষ্ট হলে আমরা প্রায়ই ব্লকের দোষ দিই। তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাক, যেমন অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরার কাপড় অবশ্যই নিয়ম মেনে ধুতে হবে। তিনি ধোয়ার সময় খুব বেশি ঘষাঘষি না করার ও বেশিক্ষণ ভিজিয়ে না রাখার পরামর্শ দেন। আলতো হাতে শ্যাম্পু দিয়ে ধুলে পোশাকের স্থায়িত্ব বাড়ে। এ ছাড়া তিনি তরল ডিটারজেন্ট ব্যবহার এবং গরম পানি এড়িয়ে চলার কথা বলেন, কারণ গরম পানি কাপড়ের রং ও টেক্সচার নষ্ট করতে পারে। হালকা ঠান্ডা বা স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ বলে তিনি মনে করেন।




