ছোট শিশুদের মধ্যে জুতা-স্যান্ডেল মুখে দেওয়ার প্রবণতা অনেক অভিভাবককেই দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। কিন্তু এই আচরণ কি সত্যিই অস্বাভাবিক? চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রেই একই কথা প্রযোজ্য নয়—কখনো কখনো এটি শারীরিক বা মানসিক কোনো জটিলতার ইঙ্গিতও বহন করে।

ঢাকার মিরপুরের ডা. এম আর খান শিশু হাসপাতাল ও শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লাজিনা শারমিন এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, হামাগুড়ি শেখার পর থেকে শিশুর জগৎ প্রসারিত হয় এবং হাতের কাছে পাওয়া নানা জিনিস সে মুখে দিতে শুরু করে। এটি এক ধরনের স্বাভাবিক কৌতূহল। এ সময় জুতা-স্যান্ডেলও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রথম দাঁত ওঠার সময় মাড়িতে চাপ অনুভব করতেও শিশুরা নানা জিনিস কামড়ায়, যার মধ্যে পাদুকাও থাকতে পারে। এই দুটি কারণেই বেশির ভাগ শিশুর এ ধরনের আচরণ দেখা যায় এবং তা উদ্বেগের কিছু নয়।

তবে সব শিশুর ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যায় না। বোঝার বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরও যদি কোনো শিশু বারবার জুতা-স্যান্ডেল মুখে দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। বিশেষ করে যদি এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, কিংবা খাওয়ার অনুপযোগী অন্যান্য বস্তুতেও সে একই আচরণ করে, তবে তা অস্বাভাবিকতার লক্ষণ হতে পারে। ডা. শারমিন জানান, অনেক সময় আয়রন বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাবে শিশুদের এমন অভ্যাস গড়ে ওঠে। পুষ্টিঘাটতি ছাড়াও মানসিক বিকাশজনিত সমস্যার কারণেও এটি দেখা দিতে পারে।

এ ধরনের অস্বাভাবিক আচরণকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যদি মনে হয় শিশুটি জানে যে জুতা কামড়ানো উচিত নয়, তবুও সে তা করছে, তবে দেরি না করে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। একটি বাড়ন্ত শিশুর জন্য পুষ্টির ঘাটতি বা মানসিক জটিলতা পরবর্তী জীবনে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনবোধে দ্রুত পেশাদার সাহায্য নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, শিশুর জুতা-স্যান্ডেল কামড়ানোর অভ্যাসটি স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক—দুই রকমই হতে পারে। বয়স, স্থায়িত্ব ও সঙ্গতিপূর্ণ অন্যান্য আচরণ লক্ষ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সর্বোত্তম পথ।