জিম্বাবুয়ের কারিবা বাঁধ এলাকায় এক ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় অন্তত ৯৫ জন বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে। মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন প্রাণ হারিয়েছে বা কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে — তার স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, জাহাজে ৯০ জন যাত্রী এবং পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তবে জাহাজটি সম্ভবত অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল, কারণ নিবন্ধিত টিকিট বিক্রির হিসাব অনুযায়ী যাত্রীর সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী একটি সূত্র জানিয়েছে, সকালে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই নৌকাটি যাত্রা শুরু করেছিল। পরে একটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে সেটি উল্টে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারiba হ্রদটি জাম্বিয়া সীমান্ত জুড়ে অবস্থিত এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মনুষ্যসৃষ্ট জলাধার। এই হ্রদটি উভয় দেশের জন্য পরিবহন, মৎস্য শিকার এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়।

এএপি সংবাদ সংস্থাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট বলছে, নিবন্ধিত টিকিট বিক্রি অনুযায়ী নৌকায় ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছিলেন। এছাড়াও, টিকিটের বয়সসীমার নিচে থাকা আরও কিছু শিশুও জাহাজে থাকতে পারে বলে সংস্থাটি মন্তব্য করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুৎসা মুরোমবেদজি তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে যাত্রা শুরুর সময় নৌকাটি দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা কারিবা শহরে যাওয়ার জন্য প্রায় পাঁচ ঘণ্টার এই নৌপথটি নিয়মিত ব্যবহার করেন।

মুরোমবেদজি লিখেছেন, "আমাদের সামনে এমন কিছু কঠিন প্রশ্ন আছে যার সৎ উত্তর প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষকে নৌকায় থাকা লোকজনের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করতে হবে।" পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যাসহ বিস্তারিত তথ্য "যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে"। এদিকে, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকাহত। এক নিহতের স্বজন জানিয়েছেন, নৌকাডুবিতে মারা যাওয়া তাদের পরিবারের একজন সদস্যকে "পরিবারের গর্ব ও আনন্দ" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাবু এনকুবে জানান, এই ঘটনা মানুষের ক্ষতি প্রকাশ করার এবং পরিবারটিকে স্মরণ করার একটি সুযোগ করে দিয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ বলছে, তারা একটি হত্যাচেষ্টার মামলার তদন্ত করছে, তবে এ পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি। এই ঘটনার সাথে নৌকাডুবির কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা স্পষ্ট নয়।