পপি বীজ থাকায় জনপ্রিয় একটি আমেরিকান সিজনিং পণ্য সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে ট্রেডার জো’র ‘এভরিথিং বাট দ্য ব্যাগেল’ সিজনিংটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পপি বীজে প্রাকৃতিকভাবে কোনো আফিম থাকে না, তবে ফসল তোলার সময় পপি গাছের তরলের সংস্পর্শে এসে এতে আফিম জাতীয় পদার্থের সংক্রমণ ঘটতে পারে। এই কারণেই দুই দেশেই পপি বীজ নিষিদ্ধ।
সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল নারকোটিকস ব্যুরো বুধবার জানিয়েছে, পণ্যটির ২০টির বেশি অনলাইন লিস্টিং সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে সিউল কর্তৃপক্ষ জানায়, পণ্যটির পরীক্ষায় মরফিন ও কোডিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে — যা পপি গাছের রসে থাকা আফিম জাতীয় উপাদান।
২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মুদি চেইন ট্রেডার জো এই পণ্যটি বাজারে ছাড়ে। পপি বীজ ছাড়াও এতে রয়েছে তিল বীজ, সামুদ্রিক লবণ, গুঁড়ো রসুন ও গুঁড়ো পেঁয়াজ। পণ্যটির বোতল যাদের কাছে রয়েছে, তাদের তা ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ।
সিএনএ’র এক প্রতিবেদনে ব্যুরো জানায়, নিয়ন্ত্রিত মাদকের ব্যাপারে সিঙ্গাপুরের নীতি সম্পূর্ণ শূন্য সহনশীলতার। মাদকদ্রব্য অপব্যবহার আইনে বলা হয়েছে — কোনো নিয়ন্ত্রিত মাদক দখল, সেবন, আমদানি, রপ্তানি, উৎপাদন বা পাচার — এমনকি অতি সামান্য পরিমাণেও — তা অপরাধ।
দক্ষিণ কোরিয়ার তদন্তকারীরা বলছেন, কেউ কেউ বিদেশ ভ্রমণ থেকে স্মারক হিসেবে সিজনিংটি দেশে নিয়ে এসেছিলেন এবং পরে তা বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেন। দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউ কেউ বুঝতে না পেরে এতে নিয়ন্ত্রিত পদার্থ রয়েছে; আবার কেউ কেউ জেনেশুনে তা করেছেন।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, বিদেশে একটি পণ্য বৈধভাবে বিক্রি হলেও কোরিয়ায় সেটি মাদকদ্রব্য বা নিষিদ্ধ আমদানি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হতে পারে, তাই এ ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়াও এই সিজনিংয়ের বিষয়ে অন্য কোনো দেশে নিষেধাজ্ঞার খবর পাওয়া যায়নি।




