কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর জীবন ও সংগীতের দীর্ঘ পথচলা নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা উচিত বলে মনে করেন গীতিকবি ও সংগীত প্রযোজক আসিফ ইকবাল। গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার মগবাজারে আয়োজিত আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মত প্রকাশ করেন। আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম মিউজিশিয়ানস ক্লাব ঢাকা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের যৌথ উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

আসিফ ইকবালের মতে, আইয়ুব বাচ্চুর জীবন নিজেই একটি সিনেমার গল্পের মতো। চট্টগ্রামের 'রবিন' থেকে গিটারসম্রাট হয়ে ওঠার যাত্রা, প্রথম অ্যালবামের ব্যর্থতা, সোলস ব্যান্ড ছেড়ে নিজস্ব ব্যান্ড গঠন, ১৯৯২ সালে দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম প্রকাশ, ২০১২ সালে সিসিইউ-এর অভিজ্ঞতা এবং সতীর্থদের সঙ্গে নানা মতপার্থক্য—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন এক নাটকীয় পরিক্রমা। ৫৬ বছর বয়সে তাঁর অকালপ্রয়াত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই গল্পের এক করুণ সমাপ্তি ঘটে। তিনি মনে করেন, এই ঘটনার পরিক্রমা যথাযথভাবে সাজালেই একটি চমৎকার চিত্রনাট্য তৈরি হবে, আলাদা করে কোনো গল্প বানানোর প্রয়োজন নেই।

অনুষ্ঠানে তিনি আইয়ুব বাচ্চুর দুটি অপূর্ণ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেন। একটি ছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ১৫ লাখ মানুষের সামনে কনসার্ট করা এবং অন্যটি ছিল তরুণদের গিটার শেখানোর জন্য একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। আসিফ ইকবালের ধারণা, সিনেমার মাধ্যমে প্রথম স্বপ্নটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সম্ভব এবং দ্বিতীয় স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের পথও প্রশস্ত হতে পারে। এছাড়া এবি ফাউন্ডেশনের কাছে থাকা আইয়ুব বাচ্চুর প্রায় ২০০টি অপ্রকাশিত গান এই সিনেমার জন্য বড় সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি জানান।

সংগীতশিল্পীদের জীবনীচিত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বায়োপিক হলেও সংগীতশিল্পীদের ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যায় না। বর্তমান প্রজন্মের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিলসের মাধ্যমে 'রুপালি গিটার'-এর মতো গান চিনলেও শিল্পীর সামগ্রিক জীবন ও সংগ্রামের কথা জানে না। 'বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি' সিনেমার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দর্শক যখন আগে থেকেই গানগুলো চেনে, তখন জীবনীর সাথে গানের সংমিশ্রণ সিনেমাটিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আসিফ ইকবাল জানান, তাঁর লেখা '১০০টা স্বপ্ন' গানটি গেয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর জানাজায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে তিনি কতটা ভালোবাসার মানুষ ছিলেন। সেই ভালোবাসাকে কেবল স্মরণানুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না রেখে সিনেমার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন। এক কালোত্তীর্ণ শিল্পী হিসেবে আইয়ুব বাচ্চু তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমেই চিরকাল বেঁচে থাকবেন এবং নতুনদের পথ দেখাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এই বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আসিফ আকবর, কোনাল, জয় শাহরিয়ার, শফিক তুহিন, শহীদ মাহমুদ জঙ্গী, পার্থ বড়ুয়া, পিলু খান, রফিকুল আলম, ফয়াদ নাসের বাবু, লাবু রহমান, রিপন খান, গোলাম মোর্শেদ, সাব্বির, কিশোর, জুয়েল মোর্শেদ, তরুণ মুন্সি, রাশেদ এবং আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা প্রমুখ।