ব্যস্ত নগরজীবনের ফাঁকে সন্ধ্যার আকাশের দিকে তাকালে মুগ্ধ হওয়ার মতো একাধিক মহাজাগতিক ঘটনা ঘটতে চলেছে বাংলাদেশে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করবে শুক্র গ্রহ। সূর্যাস্তের আধঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে পশ্চিম দিগন্তে খালি চোখেই দেখা যাবে এটি, হীরার মতো ঝলমল করবে। তবে টেলিস্কোপ বা দুরবিন দিয়ে দেখলে গ্রহটি সরু চাঁদের আকারে ধরা দেবে, কারণ এটি সূর্য ও পৃথিবীর মাঝামাঝি অবস্থানে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।

নক্ষত্র ও ছায়াপথ পর্যবেক্ষণের জন্যও এ সময়টি আদর্শ। ১১ সেপ্টেম্বর অমাবস্যা হওয়ায় সেদিন রাতে আকাশে চাঁদ না থাকায় অস্পষ্ট আলোর প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নক্ষত্ররাজি স্পষ্ট দেখা যাবে। অমাবস্যার পর পশ্চিম আকাশে নতুন চাঁদের সরু রেখা ফুটে উঠবে। বিশেষত ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পরে একফালি চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শুক্র গ্রহকে অবস্থান করতে দেখা যাবে, যা এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করবে। একই সময়ে উত্তর-পূর্ব আকাশে পৃথিবীর নিকটতম ছায়াপথ অ্যান্ড্রোমিডাকে দুরবিন দিয়ে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

সন্ধ্যার পর মাথার ঠিক ওপরে গ্রীষ্মকালীন ত্রিভুজ নামে পরিচিত তিনটি উজ্জ্বল নক্ষত্র — ভেগা, আলটায়ার ও ডেনেব — মিলে যে ত্রিভুজ তৈরি করে, সেটিও স্পষ্ট দৃশ্যমান হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে লালচে বর্ণের নক্ষত্র অ্যান্টারেসসহ বিচ্ছু নক্ষত্রমণ্ডলটি সন্ধ্যা হওয়ার পর বিদায় নেওয়ার আগ পর্যন্ত দৃষ্টিগোচর হবে।

গ্রহগুলোর অবস্থানের দিক থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে বৃহস্পতি মূলত ভোরের আকাশে শেষ রাতে উদিত হবে, তাই সন্ধ্যার আকাশে এটি দেখা যাবে না। তবে শনি গ্রহ পৃথিবীর অত্যন্ত কাছাকাছি থাকায় সারারাত দৃশ্যমান থাকবে। ছোট টেলিস্কোপ বা দুরবিন দিয়ে শনির বলয় দেখার জন্য এটি সেরা সময় বলে উল্লেখ করেছে বিভিন্ন জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা। সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম, সাইটেক।