বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, এই লঘুচাপটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয়, আর উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে দেশের নানা স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কিছু কিছু অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, লঘুচাপটি মৌসুমি বায়ুর সাথে মিলে বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানী ঢাকায় আজ তেমন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং কিছু সময়ের জন্য রোদ দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
তবে সব অঞ্চলে বৃষ্টির ধরন একরকম নয়। রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের একটি বড় অংশে বৃষ্টি হচ্ছে না। অন্যদিকে বাকি বিভাগগুলোর বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক জায়গায় আকাশ মেঘলা রয়েছে। কাজী জেবুন্নেছা আরও জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসতে পারে। সেদিন রংপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানেও এমন বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে উপকূলীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় লঘুচাপের প্রভাবে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। বৃষ্টির সাথে কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সাধারণত মৌসুমি বায়ুর প্রভাব থাকে এবং বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সব লঘুচাপই নিম্নচাপে পরিণত হয় না। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান লঘুচাপটির নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।




