জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই লবণাক্ততা কেবল পানীয় জলের অভাব তৈরি করছে না, বরং নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় এই উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জার্নাল অব সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় মোট ১৭৫ জন নারীর অংশগ্রহণ ছিল। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী নারীদের ৩৮.৯ শতাংশ প্রজনননালির সংক্রমণে ভুগেছেন এবং ৭২.৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাদের মাসিক অনিয়মিত কিংবা দীর্ঘায়িত হয়। এছাড়া লবণাক্ত পানি ব্যবহারের সাথে গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যেও এই ঝুঁকির বিষয়টি সমর্থিত হয়েছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রতিদিনের ধোয়া-মোছা, রান্না এবং পানের কাজে লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে এলে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত জটিলতা বাড়তে পারে। শুধু প্রজনন স্বাস্থ্যই নয়, লবণাক্ত পানির কারণে ডায়রিয়া, ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ এবং বিপাকক্রিয়াজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদরোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। সামগ্রিকভাবে, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব নারীদের শারীরিক সুস্থতার ওপর প্রকটভাবে পড়ছে।




