নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে একটি বিশালাকৃতির শাপলাপাতা মাছ, যার ওজন প্রায় সাত মণ বা ২৮০ কেজি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতির মাছ শিকার, সংগ্রহ কিংবা কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কোনো বাধা ছাড়াই মাছটি বিক্রি করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভাসানচরের নিকটবর্তী মেঘনা নদীতে একদল জেলে ‘চরঘেরা’ জাল ব্যবহার করেন। সেই জালেই আটকে পড়ে এই বিরল মাছটি। বুধবার বিকেলে জেলেরা মাছটি হাতিয়ার ঐতিহ্যবাহী চেয়ারম্যান ঘাটে নিয়ে আসেন। সেখানে উপস্থিত উৎসুক জনতার ভিড়ে মাছটি প্রদর্শিত হয়। পরবর্তীতে জামাল মেম্বারের মৎস্য আড়ত থেকে একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নেন এবং সেখানেই তা টুকরো করে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শী সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা আবদুল বারী জানান, আড়তে ডাকের মাধ্যমে মাছটির দাম নির্ধারিত হয় এবং পরে সাধারণ মানুষের কাছে তা বিক্রি করা হয়। তার মতে, এই মাছ ধরা যে দণ্ডনীয় অপরাধ, সে সম্পর্কে জেলেদের ধারণা ছিল না।

ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) তথ্যমতে, শাপলাপাতা মাছের মোট ১৬টি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৮ থেকে ১০টি প্রজাতি পাওয়া যায়, যার দুটি মহাসংকটাপন্ন এবং তিনটি সংকটাপন্ন। বিশেষ করে নাঙলা বা পিতাম্বরী এবং ঘণ্টি প্রজাতির মাছগুলো মহাসংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া পান্ন্যা, ঠোট্ট্যা ঘাপরি এবং শিংচোয়াইন প্রজাতিগুলো সংকটাপন্ন। এই তালিকায় আরও রয়েছে ছোটলেজি, চিত্রাহাউশ, কালি, ফুল, বাদা, বাদুড়, থাইন ও চুনি প্রজাতি। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির বাজারজাতকরণ আইনত নিষিদ্ধ।

এই ঘটনায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের অধীনে শাপলাপাতা মাছ ধরা সরাসরি নিষিদ্ধ না হলেও, বন্যপ্রাণী ও বন আইনে এটি ‘বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায়’ প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি ধরা বা বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। তবে এই বিষয়ে নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং জেলা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি; তাদের ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।