দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক স্থায়িত্বের রহস্য এবং উদ্ভাবনের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন দ্য হার্শি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তিতে তিনি জানান, একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল পুরনো ঐতিহ্যের ওপর ভরসা করলে চলে না, বরং প্রতিনিয়ত নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে হয়। ১৮৯৪ সালে মিল্টন হার্শি যখন এই ব্যবসার সূচনা করেন, তখন তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং দীর্ঘস্থায়ী কিছু তৈরি করা, যা বর্তমান সময়েও সমানভাবে কার্যকর।

সিইও উল্লেখ করেন, হার্শির মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের পণ্য প্রায় সব আমেরিকান পরিবারেই থাকে, তবে এই ব্যাপক উপস্থিতি অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আত্মতুষ্টির জন্ম দিতে পারে। তিনি মনে করেন, বাজারে থাকা আর ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে থাকা এক কথা নয়। মানুষ কোনো ব্র্যান্ডকে কেবল পুরনো বলে বেছে নেয় না, বরং সেটি বর্তমান সময়ে তাদের কাছে কতটা অর্থবহ, তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি 'রিসেস ওরিও'র কথা বলেন। ক্রেতাদের ওরিও-কে পিনাট বাটারে ডুবিয়ে খাওয়ার অভ্যাসের কথা মাথায় রেখে এই পণ্যটি বাজারে আনা হয়। মাত্র এক বছরে এই উদ্ভাবনটি ১৮৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি খুচরা বিক্রির রেকর্ড গড়েছে, যা গত এক দশকের অন্যতম সফল ক্যান্ডি উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত।

প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পূরণে হার্শি তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এর ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত পণ্য বাজারে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে এবং তাদের উদ্ভাবন পাইপলাইন ৫০ শতাংশের বেশি প্রসারিত করা হয়েছে। সিইও-র মতে, কেবল নতুন কিছু তৈরি করাই লক্ষ্য নয়, বরং ক্রেতাদের চাহিদাকে দ্রুততম সময়ে পণ্যে রূপান্তর করাই মূল উদ্দেশ্য।

ব্যবসায়িক কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগে মিষ্টান্ন এবং নোনতা স্ন্যাকস আলাদাভাবে বাজারজাত করা হতো, যা এখন 'ওয়ান হার্শি' (ONE Hershey) মডেলের আওতায় আনা হয়েছে। এই সমন্বিত কৌশলের মাধ্যমে ১,২০০ জনের একটি বিক্রয় বাহিনী বর্তমানে ৭৫,০০০-এর বেশি দোকানে কাজ করছে। এর ফলে উত্তর আমেরিকায় নোনতা স্ন্যাকসের বিক্রি ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক কোম্পানির প্রবৃদ্ধির চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি।

মার্কেটিং কৌশলের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্যাম্পেইন 'হার্শিস: ইটস ইয়োর হ্যাপি প্লেস' শুরু করেছে, যা উইন্টার অলিম্পিক এবং ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের বিশ্বকাপ সফর সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া সংগ্রাহক মিল্টন হার্শির জীবনীর ওপর ভিত্তি করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সবশেষে সিইও মনে করিয়ে দেন যে, মিল্টন হার্শি কেবল একটি কোম্পানি গড়েননি, বরং একটি শহর, স্কুল এবং ট্রাস্ট তৈরি করেছেন যা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় সহায়তা করে। কোম্পানির প্রতিটি পণ্যের বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ এই মহৎ উদ্দেশ্য পূরণে ব্যবহৃত হয়। তাঁর মতে, ঐতিহ্য কোনো সুরক্ষা দেয়াল নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব। যারা প্রতিনিয়ত শুনতে রাজি এবং খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তারাই কেবল টিকে থাকে।