ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ পণ্যের ডিজিটাল টোকেন তৈরি হলেও, সেগুলো পুনরায় বিক্রি করে টাকা উদ্ধার করা বা তারল্য নিশ্চিত করা এখন পর্যন্ত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সাধারণত টোকেনাইজড প্রাইভেট ফান্ডের শেয়ার বিক্রি করতে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই জটিলতা দূর করতে এবং বিনিয়োগকারীদের দ্রুত অর্থ ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে নিউ ইয়র্কভিত্তিক স্টার্টআপ 'ফিশন' (Fission) ১০ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ এ (Series A) ফান্ডিং সংগ্রহ করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে সম্পন্ন হওয়া এই বিনিয়োগ রাউন্ডের নেতৃত্ব দিয়েছে প্যানটেরা ক্যাপিটাল (Pantera Capital), আর এতে অংশগ্রহণ করেছে সার্কেল ভেঞ্চারস, বর্ডারলেস ক্যাপিটাল এবং অরি রুবেনস্টাইন। তবে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বাজারমূল্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৪ সালে সিইও জোনাথন শ্যাফার, সিআরও স্টিভ বেন্ডিট এবং সিটিও ক্রিস হামফ্রি এই স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন। ব্ল্যাকরক, অ্যাপোলো বা জানুস হেন্ডারসনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টোকেনাইজেশন কাগজের জটিলতা কমিয়ে আনলেও, বিক্রির সময় ক্রেতা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফিশন এই সমস্যার সমাধানে নিজেই ক্রেতার ভূমিকা পালন করবে। তাদের প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগকারীরা কেবল ডিজিটাল ওয়ালেট যুক্ত করে বিক্রির আবেদন করবেন এবং বাকি আইনি ও ট্রেডিং প্রক্রিয়া ফিশন নিজেই সম্পন্ন করবে। প্রতিষ্ঠানের সিইও জোনাথন শ্যাফার জানান, সাধারণত একটি পণ্য বিক্রি করতে যেখানে ২০০ দিন সময় লাগতে পারে, সেখানে একটি নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে ফিশনের মাধ্যমে মাত্র ৯০ সেকেন্ড বা তার কম সময়ে বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা ফেরত পেতে পারেন।
ওয়াল স্ট্রিটে বর্তমানে টোকেনাইজেশনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ব্ল্যাকরক গত আগস্টে দুটি টোকেনাইজড মানি মার্কেট প্রোডাক্ট চালু করেছে এবং জেপি মর্গানের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ মে মাসে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য তাদের দ্বিতীয় টোকেনাইজড মানি মার্কেট ফান্ড লঞ্চ করেছে। এছাড়া ফেডারেটেড হার্মিস এবং প্রমিথিয়ামের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে টোকেনাইজড ফান্ড আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ কমিশনস-এর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থার রিপোর্টে দেখা গেছে, টোকেন তৈরির চেয়ে সেগুলো বিক্রির বাজার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে আছে। প্যানটেরা ক্যাপিটালের জেনারেল পার্টনার ফ্র্যাঙ্কলিন বি মনে করেন, বর্তমানে সবাই টোকেন ইস্যু করার দিকে মনোযোগী, কিন্তু টোকেনাইজেশনের পরবর্তী সমস্যা বা তারল্য নিয়ে কাজ করছে খুব কম প্রতিষ্ঠান, আর ঠিক এখানেই ফিশন কাজ করছে।
ফিশনের প্রতিষ্ঠাতারা এই সমস্যার কথা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছেন। বিলিয়নেয়ার স্টিভ কোহেনের হেজ ফান্ড 'পয়েন্ট৭২'-এর বিনিয়োগকারী থাকাকালীন শ্যাফার লক্ষ্য করেন যে, ডিজিটাল টোকেন হওয়া সত্ত্বেও অর্থ উত্তোলনের সময় কমছে না। এরপর সিকিউরাইজ কোম্পানির স্টিভ বেন্ডিট এবং ক্রিস হামফ্রির সঙ্গে মিলে তিনি এই দ্রুত এক্সিট সিস্টেম তৈরির উদ্যোগ নেন। বর্তমানে লং আইল্যান্ড এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ছড়িয়ে থাকা আট সদস্যের এই দলের প্রধান গ্রাহক হলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বিভিন্ন হেজ ফান্ড, ক্রিপ্টো সংস্থা এবং স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি উচ্চবিত্ত ব্যক্তিরাও তাদের ব্যক্তিগত হোল্ডিং নগদায়নের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। এর আগে সল্ট ফান্ড এবং ক্রাইনস ক্যাপিটালের নেতৃত্বে ১.৬ মিলিয়ন ডলারের প্রি-সিড রাউন্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহ করেছিল।




