গত বছর শিল্পকলা এবং বিলাসজাত সংগ্রহের ক্ষেত্রে অন্যান্য সকল প্রজন্মের তুলনায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করেছে বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম বা 'জেন জি'। সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই প্রবণতা বিশ্ব শিল্পবাজারের প্রচলিত রূপরেখাকেই বদলে দিচ্ছে। মূলত প্রযুক্তি খাতের উত্থান এবং নতুন করে অর্জিত বিপুল সম্পদের কারণে এই প্রজন্মের কেনাকাটার ধরণ এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক।
দ্য ফাইন আর্ট গ্রুপ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অ্যানিতা হেরিওট ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় অনুষ্ঠিত ফরচুন-এর বার্ষিক 'মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন' সম্মেলনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে এমন অনেক তরুণ রয়েছেন যাদের হাতে প্রচুর অর্থ আছে, কিন্তু তা কোথায় বিনিয়োগ করবেন তা তারা ঠিক জানেন না। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের মাধ্যমে হঠাৎ সম্পদশালী হওয়া এই তরুণরা দামের কথা চিন্তা না করেই কেবল 'চমকপ্রদ' মনে হওয়া জিনিসগুলো কিনে নিচ্ছেন। তাদের কাছে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো বস্তুর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের চেয়ে তার বাহ্যিক আকর্ষণ বেশি গুরুত্ব পায়।
হেরিওটের মতে, এই প্রজন্ম কেবল প্রথাগত চিত্রকর্মেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং ডাইনোসরের হাড়, দামী স্নিকার্স কিংবা ২ কোটি ডলার মূল্যের পোকেমন কার্ডের মতো সংগ্রহযোগ্য জিনিসের পেছনেও তারা বিপুল অর্থ ঢালছেন। পাশাপাশি জ্যঁ-মিশেল বাসকিয়াটের মতো প্রথিতযশা শিল্পীদের কাজের প্রতিও তাদের প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
বিনিয়োগের পদ্ধতিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আগের প্রজন্মগুলো সাধারণত গ্যালারি বা নিলামকেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শিল্পকর্ম দেখার পর দাম নির্ধারণ করত। তবে জেন জি-র ক্ষেত্রে ল্যাপটপের স্ক্রিনই এখন প্রধান মাধ্যম। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় যখন মানুষ ঘরে বন্দি ছিল, তখন অনলাইনে বিডিং বা নিলামের হার ৪৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এখন তারা একটি জেপিইজি (JPEG) ফাইল দেখেও কয়েক মিলিয়ন ডলারের শিল্পকর্ম কিনতে দ্বিধাবোধ করেন না।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রবণতা কোনো সাময়িক হিড়িক নয়। তবে সময়ের সাথে সাথে তাদের পছন্দের বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে। যেমনটি বেবি বুমার প্রজন্মের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল—তারা তাদের যৌবনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে ষাটের দশকের পুরনো গাড়ি সংগ্রহ করতেন। একইভাবে জেন জি-র ক্ষেত্রেও নস্টালজিয়া বা স্মৃতি কাতরতা কাজ করবে। ফলে ভবিষ্যতে ১৯৯০ বা ২০০০ সালের ক্লাসিক আইফোন কিংবা এক্সবক্সের মতো জিনিসগুলো উচ্চমূল্যের শিল্পবস্তু হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমনকি বর্তমানে ১৯৮২ সালের পুরনো অডি গাড়ির প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে তারা তাদের বেড়ে ওঠার সময়ের সংস্কৃতি ও বস্তুর প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়বেন।
আর্থিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই প্রজন্মের মোট আয় ছিল ৯ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান আর্থিক সক্ষমতাই তাদের বিলাসজাত পণ্যের বাজারে প্রভাবশালী করে তুলছে।




