ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক শীর্ষ ক্রিপ্টো উপদেষ্টা বো হাইনস একটি গুরুতর স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে এখন তদন্তের সম্মুখীন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক അന്വേഷণ প্রতিবেদনে জানা গেছে, হাইনস যখন হোয়াইট হাউসে থেকে স্টেবলকয়েন নিয়ন্ত্রণকারী 'জেনিয়াস অ্যাক্ট' (GENIUS Act) আইনটি প্রণয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই তার সহ-মালিকানাধীন একটি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান টেদার (Tether) থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার গ্রহণ করেছে। টেদার বর্তমানে এই খাতের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান।

তদন্তে দেখা গেছে, ২০২২ সালে বো হাইনস তার বাবা টড হাইনস এবং মার্কেটিং নির্বাহী গ্যারি ডেনিসের সাথে মিলে 'নাক্সাম' (Nxum) নামক একটি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এল সালভাদর ভিত্তিক টেদারের জন্য একটি 'কৌশলগত ব্র্যান্ড এবং পাবলিক অ্যাফেয়ার্স পরিকল্পনা' তৈরির চুক্তির অধীনে এই প্রতিষ্ঠানটি ৬৩ লক্ষ ডলার আয় করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইনস যখন ২৯ বছর বয়সে হোয়াইট হাউসে ডলার-পেগড ক্রিপ্টোকারেন্সি বা স্টেবলকয়েন নিয়ন্ত্রণের জন্য জেনিয়াস অ্যাক্ট নিয়ে কাজ করছিলেন, তখনই এই অর্থপ্রদান শুরু হয়। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর তিনি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এলেও তার এক-তৃতীয় মালিকানা বজায় রেখেছিলেন।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উক্ত বিলটি আইনে স্বাক্ষর করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর বো হাইনস হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন। আশ্চর্যজনকভাবে, সরকারি দায়িত্ব ছাড়ার ঠিক পরের মাসেই টেদার তাকে তাদের নতুন মার্কিন বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর পাশাপাশি টেদারের পক্ষ থেকে নাক্সাম প্রতিষ্ঠানটিকে কোটি কোটি ডলার দেওয়া অব্যাহত থাকে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নাক্সাম প্রতিষ্ঠানের গঠন ও কার্যক্রম নিয়ে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই ছোট প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে মাত্র একজন কর্মীর নাম উল্লেখ ছিল—চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার নব সিং। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নিউইয়র্ক স্টেট পেনশন ফান্ডের ঘুষ ও জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে নব সিং ২১ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে নাক্সাম ট্রাম্প-কেন্দ্রিক মেমেকয়েন 'রিস্টোর দ্য রিপাবলিক' তৈরিতে সাহায্য করে এবং ট্রাম্প সমর্থক সুপার পিএসি 'মাগা ইনক'-এর বিলবোর্ড বিজ্ঞাপনে ১০ লক্ষ ডলার অনুদান দেয়।

এই পুরো চুক্তির নেপথ্যে ছিলেন মার্কেটিং উদ্যোক্তা পিটার ভিনসার, যিনি ২০২৫ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের কাছে টেডারের সিইও পাওলো আরডিনোর সাথে টড হাইনস ও গ্যারি ডেনিসের সাক্ষাতের আয়োজন করেন। সেই সময় বো হাইনস হোয়াইট হাউসের ভেতরেই জেনিয়াস অ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছিলেন। যদিও চূড়ান্ত চুক্তিতে 'লবিং' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং ভিনসারের এজেন্সি 'নটোরিয়াস'-এর মাধ্যমে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, তবে প্রকৃত কাজগুলো নাক্সাম-ই সম্পাদন করেছিল বলে পরিকল্পনা নথিতে দেখা গেছে।

বো হাইনসের এই বিতর্কিত ভূমিকা ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টো নীতি এবং প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যকার সংঘাতের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের পরিবার নিজস্ব মেমেকয়েন এবং ডেসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স প্ল্যাটফর্ম 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল'-এর মতো উদ্যোগ শুরু করেছে। ফরচুন ম্যাগাজিনের জুলাই মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আর্থিক বিবরণীতে ক্রিপ্টো-সম্পর্কিত সম্পদের পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন ডলার দেখানো হয়েছে।