তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথেই নদী তীরের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ওই এলাকার নারী ও কিশোরীরা। নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ও খালিশা চাপানী গ্রামের বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে পানিবন্দি সময়ের বিভীষিকাময় চিত্র।
স্থানীয় কিশোরী মাইশা আনজুম জানান, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে শৌচাগারগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়, যার ফলে নারী ও কিশোরীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। আরশি মনি নামের আরেক কিশোরীর মতে, বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেলেও সমস্যা শেষ হয় না। সেখানে রাতে ঘুমানো, পোশাক পরিবর্তন কিংবা গোসলের মতো ব্যক্তিগত কাজগুলো করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত ও নিরাপদ শৌচাগারের অভাবে তারা অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।
মাসিক চলাকালীন সময়ে এই সমস্যা আরও প্রকট হয় বলে জানান কিশোরী ছাবিতুন নাহার। চারপাশের প্লাবিত পরিবেশের কারণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং প্রয়োজনীয় স্যানিটারি সামগ্রী সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই বিষয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আতিকুর রহমান খান সতর্ক করে বলেন, বন্যার সময় স্যানিটারি প্যাডের অভাবের কারণে অনেকে পুরোনো কাপড় ব্যবহার করেন, যা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রজনন স্বাস্থ্যে জটিলতা তৈরি করতে পারে। এছাড়া খাদ্য সংকটের কারণে কিশোরীদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতিসহ বিভিন্ন পুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) পুরবী রানী রায় মনে করেন, দুর্যোগকালীন পরিকল্পনায় নারী ও কিশোরীদের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিলে এই ভোগান্তি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।
উল্লেখ্য যে, কেবল তিস্তাপাড়ের মানুষই নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদীবিধৌত এলাকায় বন্যার তীব্রতা ও মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে। বর্ষাকালে প্রতিবছরই তিস্তাপাড়ের মানুষকে এই জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।




