গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ থাকা আরও ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিহতদের মধ্যে ঢাকা ও সিলেট বিভাগ থেকে দুজন করে এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ থেকে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০১ জন এবং সংশ্লিষ্ট উপসর্গ নিয়ে আরও ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ছয় মাসের ব্যবধানে মোট ১ হাজার ৬৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

মর্টিলিটি রেট বা মৃত্যুর সংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে ৪৩২ জন মারা গেছেন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলেট বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৯। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৬, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪০ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবার প্রকাশিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে সংক্রামক এই রোগটির উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২১৫ জন। ভর্তি হওয়া রোগীদের বিভাগীয় বন্টন অনুযায়ী— ঢাকা বিভাগে ৪৩০, চট্টগ্রামে ২৭০, সিলেটে ১৫৮, বরিশালে ১৩৯, খুলনায় ৯০, ময়মনসিংহে ৭৩, রাজশাহীতে ২৯ এবং রংপুর বিভাগে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে হামের উপসর্গ থাকা রোগীর মোট সংখ্যা ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জনে পৌঁছেছে এবং নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬৪৬ জন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, হাসপাতালে আসা সকল রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব আক্রান্তের যথাযথ পরীক্ষা সম্ভব হয় না, যার ফলে হাম শনাক্ত হওয়া প্রকৃত রোগীর সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।