জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ওপর একইভাবে পড়ে না; বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি। শিশুদের শারীরিক গঠন এবং শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা অতি দ্রুত স্বাস্থ্যগত সংকটে পড়ে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তীব্র পানিশূন্যতা, অপুষ্টি এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের আক্রমণ শিশুদের শরীর ও স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
ইউনিসেফ কর্তৃক ২০২১ সালে প্রকাশিত 'শিশু জলবায়ু ঝুঁকি সূচক' অনুযায়ী, পরিবেশগত ও জলবায়ুগত ঝুঁকির মুখে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন শিশুদের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মোট ১৬৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৫তম স্থানে রয়েছে। জলবায়ু সংকটের এই প্রভাব কেবল স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়ছে। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকারি প্যানেল (IPCC) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বর্তমান এবং আগামীর প্রজন্মগুলো বন্যা, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, নিরাপদ পানির অভাব, চরম দারিদ্র্য এবং ক্ষুধার মতো গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিসেফ বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলায় শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা உள்ளிட்ட অপরিহার্য সামাজিক সেবাগুলোকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তোলা এখন সময়ের দাবি।




