ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের দুটি নির্ধারিত জনসংযোগ অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মিরাটে গত বৃহস্পতিবার একটি এবং ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী এলাকা বারানসিতে অপর একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণমাধ্যমে এই স্থগিতাদেশের কথা স্বীকার করেছে, যদিও স্থগিতকরণের নির্দিষ্ট কারণ তারা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেনি। কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, অতীতেও উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখের মতো জায়গায় আবহাওয়া বা ভেন্যু সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে এ ধরনের কর্মসূচি বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করা হচ্ছে।

এই স্থগিতাদেশ এমন এক সময়ে এল যখন নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যকারিতা এবং সিইসির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কমিশনের অন্য দুই সদস্য, বিবেক যোশি ও সুখবীর সিং সান্ধু, সিইসি-র বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রায় সব বিরোধী দল তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব এবং শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরের মতো শীর্ষ নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলটির নেতা অভিজিৎ দীপ ঘোষণা করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন এবং দ্বিতীয় 'যন্তর মন্তর' কর্মসূচি পালন করা হবে।

মূলত তরুণ ভোটারদের সচেতন করতে নির্বাচন কমিশন 'ইলেকটোরাল লিটারেসি ক্লাব' (ইএলসি) নামক একটি কর্মসূচি পরিচালনা করে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থী (জেন আলফা) এবং ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী তরুণদের (জেন-জি) মধ্যে গণতন্ত্র, ভোটদান প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং ইভিএম সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান করা। এছাড়া গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য 'ভোট পাঠশালা'র আয়োজন করা হয়। মিরাট ও বারানসিতে সিইসি-র এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর গুজরাটের আহমেদাবাদে এই ইএলসি ও ইসিনেট কর্মসূচির সর্বশেষ ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।