পাকিস্তানে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) কর্তৃক আয়োজিত মহাসমাবেশ ও লং মার্চকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বড় ছেলে সুলেমান খান। লন্ডনে অবস্থানরত ২৯ বছর বয়সী সুলেমান ক্ষমতাসীন জোটকে 'স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী' বলে অভিহিত করেছেন এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পশ্চিমা দেশগুলোকে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কোনো কারণ ছাড়াই মধ্যরাতে পরিবারের নারী সদস্যদের তুলে নেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এটি পাকিস্তানে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থারই প্রমাণ।
সম্প্রতি লাহোরে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান এবং নোরিন নিয়াজসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয় ও পিটিআই-এর শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাঞ্জাব পাবলিক অর্ডার সংশ্লিষ্ট এমপিও আইনের আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি কারাগারে ইমরান খানের সাথে করা আচরণকে 'অবৈধ ও অমানবিক' বলে বর্ণনা করেছেন সুলেমান। ইমরান খানের আরেক ছেলে কাশিম খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন যে, সহিংসতা বা পরিবারের সদস্যদের বন্দি করে ২৫ কোটি মানুষের দেশকে স্তব্ধ করা সম্ভব নয়, কারণ কোনো শাসনই জনগণের চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে না।
এই পরিস্থিতি নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপ-আঞ্চলিক পরিচালক বাবু রাম পন্থ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের আগে সরকারের এই দমনমূলক কর্মকাণ্ড বেআইনি। রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক সম্পর্কের কারণে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, রোববারের প্রতিবাদ মিছিল যেন কোনোভাবেই রাজধানী ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজধানীর প্রবেশপথে প্রধান মহাসড়কগুলোতে অন্তত ২ হাজার শিপিং কনটেইনার বসিয়ে পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামাবাদে ২২ হাজার, অ্যাটক জেলায় ৩০ হাজার এবং রাওয়ালপিন্ডিতে ৯ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে পিটিআই সমর্থকেরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শহর অচল করে কোনো নাটক করে লাভ হবে না এবং তাদের বিকল্প পথ বেছে নেওয়া উচিত।
ড্রপসাইট নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইসলামাবাদের হাসপাতালগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মুখেও পিছু হটতে নারাজ পিটিআই। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা জুলফিকার আলি বুখারি জানিয়েছেন, তারা শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছেন এবং এই আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় উপহার সংক্রান্ত দুটি মামলায় যথাক্রমে ১৪ ও ১৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ বন্দিদশায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং ডান চোখে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। যদিও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পিটিআই নেতাদের মতে, আদালতের রায় অবমাননা এবং দলের প্রতিষ্ঠাতার ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদেই এই লং মার্চ দেশজুড়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।




