কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে খবর ছড়িয়েছিল যে, গহীন পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে রয়েছে। তবে শনিবার সকাল থেকে পরিচালিত বিশেষ তল্লাশি অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উক্ত খবরের কোনো প্রমাণ পায়নি।

শনিবার সকালে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর গহীন পাহাড়ের আস্তানায় পুনরায় অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সমন্বয়ে গঠিত ৩৫ সদস্যের একটি দল। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন পশ্চিম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের খোঁজে এই অভিযান চালানো হয়। তবে সেখানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা সম্ভব হয়নি। তবে আস্তানা থেকে বিছানা, রান্নার পাতিল ও খাবারের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করেছে বাহিনী।

এর আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়েছিল যে, ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশের সমন্বয়ে যে যৌথ অভিযান চালানো হয়, সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী গোলাগুলি হয়। সেই সংঘর্ষে মো. তিতাস শেখ (২৮) নামের এক সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।

শুক্রবার শেষ বিকেলে লাশ পড়ে থাকার খবরটি সামনে আসার পর কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান এবং টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী জানিয়েছিলেন যে, তারা খবরটি পেয়েছেন তবে তার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। শনিবারের অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করে পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি ও তল্লাশি চালানো হলেও লাশের কোনো হদিশ মেলেনি। ওসি সাইফুল ইসলাম আরও জানান, আপাতত এই অভিযান শেষ করা হলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ভবিষ্যতে আবারও অভিযান চালানো হতে পারে।