রাজধানীর এফডিসি মোড়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে আহসানুল্লাহ আরিফ নামে এক প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গত ২৩ অক্টোবর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মোটরসাইকেল চালক মো. ফারুক মিয়া জানান, সিগন্যালে সবুজ বাতির জন্য অপেক্ষা করার সময় পেছন থেকে একটি বড় ক্রেন দ্রুত এগিয়ে আসে এবং তাঁদের মোটরসাইকেলটির ওপর উঠে যায়। এতে মোটরসাইকেলের যাত্রী আরিফ গুরুতর আহত হন। তাঁর কোমরের নিচ থেকে দুই পায়ের মাংস উপড়ে যায় এবং ডান পায়ের হাঁটু থেকে নিচের অংশ সম্পূর্ণ থেঁতলে যায়। আরিফের বড় ভাই এ বি এম ইয়াসিন উল্লাহ জানান, ঘটনার পর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা তাঁর ডান পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন এবং তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। দুর্ঘটনার দিন তিনি মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মাকে দেখতে যাচ্ছিলেন।

আরিফের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে; তিনি স্ত্রী ও এক সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর বড় ভাই ইয়াসিন উল্লাহ, যিনি বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুমন মিয়া জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ক্রেন ও মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। তবে ওই এলাকায় সচল সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক গোলাম মর্তুজা জানান, তিনি বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছেন এবং ইনভেস্টর কোম্পানির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবির সঙ্গে তাঁর তথ্যের অমিল রয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের দাবি, একটি সিএনজির সঙ্গে মোটরসাইকেলের প্রতিযোগিতার সময় যাত্রী ছিটকে পড়ে ক্রেনের নিচে চলে যান।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে গৃহীত এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালে, যা চীনের শানডং হাইস্পিড গ্রুপ ও শিনোহাইড্রো করপোরেশন বাস্তবায়ন করছে। এর আগে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে মহাখালীতে লোহার রড পড়ে এক ১২ বছর বয়সী শিশু এবং ২০২৪ সালে তেজকুনীপাড়ায় কনটেইনারের নিচে চাপা পড়ে শামীম মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনার বিষয়ে নির্মাণকারী কোম্পানি দুটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।