কুড়িগ্রামের পৌর টাউন হল মিলনায়তনে প্রবেশের বিষয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মোহাম্মদ মনসুর আলী (৬০) নামের ওই মিলনায়তনের তত্ত্বাবধায়ককে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। মনসুর আলীকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী মল্লিকা বেগম (৫৫) গুরুতর আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজ মোড় এলাকায় অবস্থিত পৌর টাউন হল মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ ওরফে সানি (৩২) নামের এক যুবক মিলনায়তনের ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। তবে কেয়ারটেকার মনসুর আলী তাঁকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সানি সঙ্গে থাকা একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মনসুর আলীর বুকে প্রচণ্ড আঘাত করেন। সেই মুহূর্তে স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা মল্লিকা বেগমও আক্রমণকারীর আঘাতে আহত হন।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দুজনকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনসুর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত মল্লিকা বেগমকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নূরে নেওয়াজ নিশ্চিত করেন যে, দুজন রোগীকে হাসপাতালে আনা হলেও একজন পথেই প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্যজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত সানিকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, আক্রমণকারী সানি ধারালো কাঁচি ব্যবহার করে মনসুর আলীর বুকে আঘাত করেছিলেন, যা পুলিশ উদ্ধার করেছে। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিহত মনসুর আলী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছয় আনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং গ্রেপ্তারকৃত সানি একই ওয়ার্ডের সরদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ জুলহাসের ছেলে।