টাঙ্গাইল জেলায় অনুষ্ঠিত ব্যতিক্রমী চাকরি মেলায় গতকাল মঙ্গলবার মোট ২০২৭ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে মেলা প্রাঙ্গণ থেকেই ৪৪৬ জনকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বাকি ১ হাজার ৫৮১ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ১১ হাজার ৪২৭ জন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধন করেছেন।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জনসেবা চত্বরে আয়োজিত এই মেলায় জেলার শীর্ষস্থানীয় এনজিও, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেট সংস্থা অংশগ্রহণ করে। চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য মেলায় প্রবেশ ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, যা তাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সকালে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।
মেলায় এসে চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। ভাইভা শেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসএসসি থেকে স্নাতকোত্তর পাস করা প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পান। বিশেষ করে যাদের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তারাও এই মেলায় অংশ নিতে পেরেছেন। এছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও ছিল চাকরির সুযোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই চাকরিপ্রত্যাশীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে তারা নিজেদের সিভি জমা দিচ্ছেন। একাধিক চাকরিপ্রত্যাশী জানান, বিভিন্ন পদে আবেদন করে তারা অত্যন্ত খুশি। এই আয়োজন তাদের কাছে নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
ইমরান হাসান নামের একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন, আগে কলেজে আয়োজিত চাকরির মেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এখানেও এসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দিয়েছেন। প্রচুর মানুষের সমাগম দেখে তিনি আশাবাদী যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি পাবেন।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। তরুণ সমাজের বড় সমস্যা মাদক, যা যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। এমন আয়োজন মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। জেলা পুলিশ এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অনেক চাকরিপ্রত্যাশী তার দপ্তরে এসে কাজের সন্ধান চাইতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাবছিলেন তাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবেন, যেখানে একসঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়। সেই লক্ষ্য থেকেই এই চাকরি মেলার আয়োজন। তিনি আরও জানান, প্রতিবছর এমন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।



