সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন–সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী এলাকার গাজীপাড়ায় বুধবার সকালে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হাঁসের খোপে ঢুকে পড়া একটি বিশাল অজগর দেখে ভয়ে সংজ্ঞা হারিয়েছেন এক গৃহিণী। পরে বন বিভাগ ও কমিউনিটি প্যাট্রোল গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা প্রায় ১১ ফুট লম্বা অজগরটি উদ্ধার করে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছেন।

প্রতিদিনের মতো সকালে হাঁসের খোপ খুলতে যান ওই গৃহিণী। দরজা খোলার পর তিনটি হাঁস বেরিয়ে এলেও বাকিগুলো বের হচ্ছিল না। বিষয়টি দেখতে ভেতরে উঁকি দিতেই তিনি দেখতে পান, একটি হাঁস মরে পড়ে আছে এবং পাশেই কুণ্ডলী পাকিয়ে বিশাল এক অজগর। সেই দৃশ্য দেখে চিৎকার করে উঠলেও সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এ সময় স্ত্রীর চিৎকার শুনে ঘর থেকে ছুটে আসেন তাঁর স্বামী মোক্তার গাজী। পরে আশপাশের লোকজনও ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

মোক্তার গাজী জানান, মোট নয়টি হাঁসের মধ্যে তিনটি বেরিয়ে আসার পর বাকিগুলো বের হচ্ছিল না। তখন স্ত্রী খোপের ভেতর উঁকি দিয়ে অজগরটি দেখতে পান। 'সাপ, সাপ' বলে চিৎকার করার পরই তিনি সংজ্ঞা হারান।

খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বন বিভাগ ও সিপিজির সদস্যরা। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অজগরটিকে উদ্ধার করে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া সিপিজি সদস্য জুলেখা বেগম বলেন, তাঁরা কাউকে সাপটির কাছাকাছি যেতে দেননি। কারণ, কেউ হাত দিলে সাপটি অন্য কোথাও চলে যেতে পারত, তখন তা উদ্ধার করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ত।

প্রতিবেশী ইসমাইল সানা জানান, সকালে হাঁসগুলো অস্বাভাবিকভাবে ডাকাডাকি করছিল। তাঁর ধারণা, অজগরটি দুটি হাঁস খেয়ে ফেলেছে এবং আরেকটি হাঁসকে পেঁচিয়ে ধরেছিল। সম্ভবত সুন্দরবনের নদী সাঁতরে এসে খোপের ওপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে ভেতরে ঢুকেছিল সাপটি।

অজগর উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামের কৌতূহলী মানুষ মোক্তার গাজীর বাড়িতে ভিড় জমান। অনেকে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ কেজি। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে অজগরটিকে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, বন্য প্রাণী হত্যা না করার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণার কারণে মানুষ এখন অনেক সচেতন। আগে সাপ দেখলে অনেকে পিটিয়ে মেরে ফেলতেন। এখন সাপ দেখলে বন বিভাগকে খবর দেন। আজকের উদ্ধার হওয়া অজগরটিও এই সচেতনতার কারণেই প্রাণে বেঁচে গেছে।